রোববার (১ মার্চ) সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান।
শিল্প সচিব বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে রোজাদারগণ সচরাচর যেসব খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন, যেমন-ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্য তেল, ঘি, নুডলস, সেমাই ইত্যাদি বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি পণ্য মানসম্মত পাওয়া গেলেও ৪৯টি ভেজাল পাওয়া যায়।
নিম্নমানের ভোজ্য তেল বাজারজাত করায় একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। নিম্নমানের ভোজ্য তেল বাজারজাত করায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য বাজারজাত করায় সাত মাসে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোল পাম্প সিলগালা করা হয়েছে।
এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিন কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ভেজাল খাদ্য বাজারজাত কমে এসেছে। সচিব বলেন, সারা বছর ধরে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করছে। রমজান উপলক্ষে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তিতে ভূমিকা রাখা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তাদেরও সচেতনতা জরুরি। ভেজাল মনে হলেই প্রশ্ন করার পাশাপাশি বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালে খাদ্যে ভেজালকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে বিএসটিআইয়ের কার্যাবলি তুলে ধরে সচিব বলেন, রমজানে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধকল্পে চলমান মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ প্রধান কার্যালয়ের আওতাধীন জেলায় বিএসটিআইয়ের নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বন্ধের দিনসহ প্রতিদিন ৩টি করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলা/উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিএসটিআইয়ের সব বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রতিদিন একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি দেশব্যাপী বিএসটিআইয়ের সার্ভিল্যান্স টিমের অভিযান ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রমজানে প্রাণ, ইউনিলিভারের মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজার থেকে আটক করলে কোম্পানি থেকে বলা হয়, এগুলো তাদের উৎপাদিত নয়। পরে দেখা যায়, সেগুলো নকল করা হয়েছে।
নকল খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার বিষয়ে শিল্প সচিব বলেন, নিম্নমানের খাদ্য বিক্রি করা হলে সেই খাদ্য ধ্বংস করার পাশাপাশি যার কাছে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজারে সরবরাহকারীকে খুঁজে বের করা হবে।