• খেলা
  • কক্সবাজারে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’: ইয়াং টাইগার্সদের ফাইনাল দেখে মুগ্ধ হেড কোচ ফিল সিমন্স

কক্সবাজারে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’: ইয়াং টাইগার্সদের ফাইনাল দেখে মুগ্ধ হেড কোচ ফিল সিমন্স

খেলা ১ মিনিট পড়া
কক্সবাজারে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’: ইয়াং টাইগার্সদের ফাইনাল দেখে মুগ্ধ হেড কোচ ফিল সিমন্স

সমুদ্রপাড়ে আগামীর তারকা খুঁজছেন সিমন্স; অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটের ফাইনাল উপভোগের পাশাপাশি বিসিবি-কে দিলেন পরিকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ।

সমুদ্রের গর্জন আর গ্যালারির করতালিতে মুখরিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দেশের অন্যতম নান্দনিক এই ভেন্যুতে সোমবার (২ মার্চ) সকালে আকস্মিক উপস্থিত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ (Head Coach) ফিল সিমন্স। উপলক্ষ— ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল। কেবল ম্যাচ উপভোগ নয়, সিমন্সের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাইপলাইনে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং আগামীর জাতীয় দলের জন্য সম্ভাব্য আউলিয়াদের (Prospects) তালিকা তৈরি করা।

তরুণদের টেকনিকে মুগ্ধ কোচ

সকালে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছান ফিল সিমন্স। ফাইনালে অংশ নেওয়া দুই দলের তরুণ ক্রিকেটারদের লড়াই তাকে বেশ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের দাবি মেনে ব্যাটারদের টেকনিক্যাল স্কিল (Technical Skill) এবং বোলারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা মুগ্ধ করেছে এই ক্যারিবিয়ান কোচকে।

তরুণদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিমন্স বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টের ফাইনালে দল দুটি সত্যিই মানসম্মত ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক মানসিকতা দেখে আমি আশাবাদী। টেকনিক্যাল দিক থেকে অনেক ছেলেই দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এই বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হবে।’

ভেন্যু ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে সিমন্সের পর্যবেক্ষণ

কক্সবাজারের উইকেটের আচরণ এবং মাঠের ঘাস নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো (Infrastructure) নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন হেড কোচ। বিশেষ করে মূল মাঠের প্যাভিলিয়ন বা গ্যালারির অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেন তিনি।

সিমন্স উল্লেখ করেন, ‘কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট বেশ ভালো, যা মানসম্মত ক্রিকেটের জন্য সহায়ক। তবে এখানকার পরিকাঠামো উন্নয়নের আরও সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মূল প্যাভিলিয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি। পর্যায়ক্রমে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এটি বিশ্বমানের একটি ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচক ও কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি

ফিল সিমন্সের এই গুরুত্বপূর্ণ স্কাউটিং (Scouting) সফরে তার সঙ্গী হয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ও বর্তমান নির্বাচক মেহরাব হোসেন অপি এবং আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিসিবি কাউন্সিলর সালাহউদ্দিন এবং কক্সবাজার ভেন্যু ম্যানেজার আশরাফুল আজিজ সুজন। জাতীয় দলের প্রধান কোচের এমন সরাসরি পর্যবেক্ষণ মাঠের তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বহুগুণ।

নজরে পাকিস্তান সিরিজ ও বিসিএল ফাইনাল

কক্সবাজার সফরে থাকলেও সিমন্সের চিন্তাজুড়ে রয়েছে জাতীয় দলের আসন্ন অ্যাসাইনমেন্ট। বর্তমানে পাকিস্তান সিরিজের প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। কোচ জানান, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল এখন পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে (Preparation Phase) রয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যায় বিসিএল (BCL) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পরই পাকিস্তান সিরিজের জন্য মূল কার্যক্রম ও দলগত অনুশীলন পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে। আমরা ঘরের মাঠে ভালো ফলাফল করতে মুখিয়ে আছি।’

কক্সবাজারের এই সমুদ্রতীরবর্তী স্টেডিয়ামটি এখন কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং টাইগার ক্রিকেটের ‘ট্যালেন্ট ফ্যাক্টরি’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছে। সিমন্সের এই সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল।