টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স যেন এক দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। গ্রুপ পর্বের বৈতরণী কোনোমতে পার হলেও ‘সুপার এইট’ (Super Eight) পর্বে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাবর আজম-শাহিন আফ্রিদিদের পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে দায়বদ্ধতা (Accountability) নির্ধারণের পালা। আর সেই ঝড়ের প্রথম ঝাপটাটি লাগলো দেশটির নির্বাচক প্যানেলে। বিশ্বকাপের ভয়াবহ ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আইকনিক আম্পায়ার আলিম দার।
আলিম দারের বিদায়ে নাজেহাল পাকিস্তান ক্রিকেট
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিম দার তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসরের পর তাকে নির্বাচক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহারের আশায়। কিন্তু বিশ্বকাপের স্কোয়াড গঠন থেকে শুরু করে মাঠের কৌশলগত ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এই কমিটি। আলিম দারের এই সরে দাঁড়ানোকে পিসিবির সম্ভাব্য বড়সড় ‘অপারেশন ক্লিনআপ’-এর শুরু হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন বা সিলেকশন কমিটিতে (Selection Committee) আরও রদবদল আসবে কি না, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি বোর্ড।
ব্যর্থতার খতিয়ান: জয়ের চেয়ে যন্ত্রণাই বেশি
চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পথচলা ছিল অত্যন্ত বন্ধুর। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার মতো তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষকে হারালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হার মানতে হয় তাদের। এরপর সুপার এইট পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। তবে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর। সমীকরণের মারপ্যাঁচে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেলেও তা কেবল সান্ত্বনাই বয়ে এনেছে, শেষ রক্ষা হয়নি।
আর্থিক দণ্ড ও কঠোর জবাবদিহিতা
বিশ্বকাপে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কেবল নির্বাচক নন, ক্রিকেটারদের ওপরও চড়াও হয়েছে পিসিবি। জানা গেছে, ব্যর্থতার দায় হিসেবে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোচিং স্টাফদেরও এখন পারফরম্যান্সের (Performance) ব্যাখ্যা দিতে বোর্ড কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হতে হবে। শৃঙ্খলা এবং মাঠের খেলার মানোন্নয়নে পিসিবি এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ লড়াই: ছিল প্রাপ্তিও
সুপার এইট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। তবে সেই ম্যাচে একটি দুর্দান্ত রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। ফখর জামান ও শাহিবজাদা ফারহানের উদ্বোধনী জুটি ১৭৬ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ২১২ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়। যদিও জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা প্রায় জিতেই যাচ্ছিল। শাহিন আফ্রিদির করা শেষ ওভারে দাসুন শানাকা ২৪ রান তুললেও ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লঙ্কানদের। এই কষ্টার্জিত জয়টি পাকিস্তানের বিদায়ের ক্ষতে সামান্য প্রলেপ দিলেও বড় কোনো স্বস্তি এনে দিতে পারেনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন আমূল পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। আলিম দারের পদত্যাগ সেই প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র। সামনে হয়তো আরও অনেক বড় নাম এই ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দিতে পারে।