সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে—যতক্ষণ না তাদের আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের ঘাঁটি যদি অন্য দেশের ওপর আক্রমণ ও আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুদ্ধ বন্ধের উপায় হলো হামলাকারীদের থামানো: মুখপাত্র বাঘাই এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও প্রায় একই কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে থামানো গেলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানের একটি স্কুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলাম, যাতে যুদ্ধে জড়াতে না হয়, কিন্তু অন্য পক্ষগুলো যুদ্ধে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন যুদ্ধ বন্ধ করার উপায় হলো হামলাকারীদের থামানো।
‘অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার আগেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং হামলা বন্ধ করার বিষয়ে হামলাকারীদের বাধ্য করে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে।
এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৬৫ বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৩০ জনের মতো। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।