আদালত থেকে জামিনে (Bail) মুক্তি পেয়েই আইনের তোয়াক্কা না করে চরম প্রতিহিংসায় মেতে উঠেছে একটি অপরাধী চক্র। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি হত্যা মামলার আসামিরা জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরেই মামলার বাদীর বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হামলায় তিন নারীসহ একই পরিবারের অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মধ্যরাতে অতর্কিত তান্ডব স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর কাজিপাড়া এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আলী আজগর মিয়ার পরিবারের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের একদল সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা একটি হত্যা মামলার আসামি এবং অতি সম্প্রতি তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছে।
লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে লোকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় প্রাণের ভয়ে আর্তচিৎকার করলেও নিস্তার মেলেনি পরিবারের সদস্যদের। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট (Looting) করে নিয়ে যায়। ধ্বংসযজ্ঞের এক পর্যায়ে তারা ঘরের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল ভস্মীভূত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে জামিনে এসে আসামিদের এমন বেপরোয়া আচরণে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় (Insecurity) ভুগছে এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছে।
পুলিশের অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিববুল্লাহ জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণ করা হবে।"
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, জামিনে থাকা আসামিদের এমন দৌরাত্ম্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা (Law and Order) পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।