• দেশজুড়ে
  • নওগাঁয় মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী পারিবারিক ট্র্যাজেডি: স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যার পর যুবকের আত্মহনন

নওগাঁয় মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী পারিবারিক ট্র্যাজেডি: স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যার পর যুবকের আত্মহনন

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নওগাঁয় মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী পারিবারিক ট্র্যাজেডি: স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যার পর যুবকের আত্মহনন

আত্রাইয়ের বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার; এলাকায় শোকের ছায়া ও স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন।

গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক পৈশাচিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো নওগাঁর আত্রাই উপজেলা। নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ও মাত্র দুই বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজের জীবন কেড়ে নিয়েছেন এক যুবক। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। একই ঘরের ভেতর একই পরিবারের তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের পরিচয় নিহতরা হলেন বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে জয় সরকার (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) এবং তাদের একমাত্র সন্তান জিনি সরকার (২)। মাত্র কয়েক বছরের বৈবাহিক জীবনে এমন করুণ পরিণতি কেন নেমে এলো, তা নিয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন।

রক্তাক্ত সেই মধ্যরাত: ঘটনার বিবরণ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয় সরকার বেশ কিছুদিন ধরে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মানসিক চাপে ছিলেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পারিবারিক কলহ (Domestic Conflict) চরম আকার ধারণ করলে জয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী বৃষ্টি ও শিশু সন্তান জিনির ওপর অতর্কিত হামলা চালান। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই (Spot Death) মা ও মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর জয় নিজেও একই অস্ত্র দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

গভীর রাতে প্রতিবেশীরা গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে আত্রাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাপ্লুত অবস্থায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আত্রাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি ‘মার্ডার-সুইসাইড’ (Murder-Suicide) কেস হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল (Crime Scene) থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মরদেহগুলো সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নেপথ্যে কী কারণ? এটি কি কেবলই তাৎক্ষণিক ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ নাকি এর পেছনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক বা মানসিক জটিলতা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিহতের বাবা ও নিকটাত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

একটি সাজানো সংসার এভাবে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকাতুর পরিবেশ। শিশু জিনির নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন গ্রামবাসী। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আধুনিক সমাজের পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির এক ভয়ংকর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

Tags: naogaon news atrai tragedy family murder