পবিত্র রমজান মাসের শান্তির আবহে রাজবাড়ীর পাংশায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের (Property Dispute) জেরে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ বিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় নারীসহ একই পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তারাবির নামাজ শেষে অতর্কিত হামলা স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পেপুলবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে উকিল মণ্ডলের সাথে গফুর শেখের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে খয়বর খাঁসহ কয়েকজন বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় প্রতিপক্ষ জাহিদের নির্দেশে আবজাল, আহমদ আলী, মোহাম্মদ আলী ও ঝন্টুসহ একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
রক্তাক্ত আহতদের তালিকা ও বর্তমান অবস্থা হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন— পেপুলবাড়িয়া গ্রামের খয়বর খাঁ (৬০), রতন আলী (২৫), লিয়াকত আলি বিশ্বাস (৫৫), নাঈম বিশ্বাস (২২), রনি খাঁ (২০), মিরাজ খাঁ (১৮), রেহেনা খাতুন (৪৫) এবং নুসরাত জাহান (৩৫)।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে (Emergency Department) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রতন আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার (Medical Referral) করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকের বক্তব্য পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. এনামুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও জখম রয়েছে। অধিকাংশের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও রতন নামের এক যুবকের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।"
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের পর্যবেক্ষণ ঘটনার খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করে। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, "আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। পুলিশ সদস্যরা ইতিমধ্যেই হাসপাতাল ও আক্রান্ত গ্রামে গিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) নেওয়া হবে।"
বর্তমানে গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তুচ্ছ জমি সংক্রান্ত বিবাদ থেকে সৃষ্ট এই সহিংসতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত না হয়।