• দেশজুড়ে
  • মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের চরম নৃশংসতা: নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে খুনের পর যুবকের আত্মহত্যা

মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের চরম নৃশংসতা: নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে খুনের পর যুবকের আত্মহত্যা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের চরম নৃশংসতা: নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে খুনের পর যুবকের আত্মহত্যা

আত্রাইয়ে মধ্যরাতের বীভৎসতা; মাদকাসক্ত স্বামীর বেপরোয়া ছুরিকাঘাতে তছনছ একটি পরিবার, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এল নেপথ্যের করুণ কাহিনী।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মাদকাসক্তি ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিজের ঘরকে কসাইখানায় পরিণত করে স্ত্রী ও মাত্র ২৭ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন জয় সরকার (২৭) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।

নিথর দেহে রক্তাক্ত ঘর: ঘটনার আদ্যোপান্ত পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে জয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে ‘Drug Addiction’ বা মাদকাসক্তিতে ভুগছিলেন। মাদকের প্রভাবে তিনি প্রায়ই উগ্র ও বেপরোয়া আচরণ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সবাই খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়লে মধ্যরাতে জয় তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) এবং শিশু কন্যা জিনি সরকারের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

উন্মত্ত জয়ের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্ত্রী বৃষ্টির। এরপর নিজের শরীরেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জয়। চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন।

রাজশাহী মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা ঘটনাস্থলে বৃষ্টির মৃত্যু নিশ্চিত হলেও জয় ও তার শিশু সন্তান জিনির তখনো প্রাণ ছিল। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (RMCH) স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পিতা ও কন্যা।

মাদকাসক্তি ও ভেঙে যাওয়া সংসার স্থানীয়রা জানান, জয়ের মাদকাসক্তির কারণে এই পরিবারে শান্তি ছিল অধরা। নেশার টাকা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার বহুবার স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তবে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বারবার ফিরে আসতেন। এই ‘Toxic Relationship’ শেষ পর্যন্ত এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতির দিকে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্বজনরা।

পুলিশের ভাষ্য ও আইনি পদক্ষেপ আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ‘Crime Scene’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। বৃষ্টির মরদেহ রাতেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি দুজনের মৃত্যুর খবর রাজশাহী থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওসি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট যে, মাদকাসক্তি ও ‘Domestic Violence’ বা পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত জয় সরকার এলাকায় একজন মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো গভীর কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আধুনিক সমাজের পারিবারিক অস্থিরতা এবং যুবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তির এক ভয়ংকর সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একটি সাজানো সংসার মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত পুরো জেলা।

Tags: naogaon news atrai tragedy