জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এনসিপির (জাতীয় নাগরিক কমিটি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সীমান্ত স্কয়ারে বিজিবির ব্যাঙ্কুয়েট হলে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ’ (PUSAB) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কারের ধীরগতি ও এনসিপির অবস্থান
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার (Fundamental Reforms) ও আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এ দেশের আপামর জনতা এবং শিক্ষার্থীরা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “মৌলিক সংস্কারের জন্য শিক্ষার্থীরা জীবন দিয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার সেই সংস্কারকে ইনিয়ে-বিনিয়ে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকর সংস্কার না করে, তবে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নেমে সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।”
আওয়ামী লীগের অফিস ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা এবং দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি এটিকে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের সাথে ‘তামাশা’ বলে অভিহিত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, শত শত শিক্ষার্থীকে পঙ্গু ও শহীদ করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেই বিচার প্রক্রিয়া (Judicial Process) ত্বরান্বিত করার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এটি দেশের জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা না নিয়ে উল্টো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
জুলাই বিপ্লবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের 'Heroic Role' বা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। পাটওয়ারী বলেন, প্রতিটি সংকট মুহূর্তে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা যেভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাদের সেই ত্যাগের মর্যাদা দিতেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ দ্রুত আইনি ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি পাওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে পুসাব (PUSAB)-এর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত হন যে, রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।