দেশের বিনোদন অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অভিনেতা জাহের আলভী এবং তার সদ্যপ্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাত খান ইকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই ধোঁয়াশা এবার রূপ নিয়েছে চরম বিতর্কে। আত্মগোপনে থাকা আলভী শুক্রবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও পরকীয়ার মতো গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছেন। আলভীর এই কর্মকাণ্ডকে ‘নোংরা খেলা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা।
আলভীর বিস্ফোরক পোস্ট ও ‘চরিত্রহনন’-এর অভিযোগ
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাহের আলভী তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন, যেটিকে তিনি তার ‘শেষ পোস্ট’ বলে উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী ইকরা নিয়মিত সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, ইকরার বিরুদ্ধে ‘Extra-marital Affair’ বা পরকীয়ার অভিযোগও আনেন আলভী। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালে আলভীকে বিয়ে করার আগেই ইকরা অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।
মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এমন সংবেদনশীল ও নেতিবাচক তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ‘Social Media’-তে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, নিজের দায় এড়াতে এবং সহানুভূতি কুড়াতেই আলভী এখন মৃত স্ত্রীর ‘Character Assassination’ বা চরিত্রহননের চেষ্টা করছেন।
তাসনুভা তিশার ক্ষোভ: ‘মৃত মানুষের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা রাখুন’
আলভীর এই পোস্টের পর বিনোদন জগতের অনেক তারকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকারের একটি পোস্ট শেয়ার করে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা আলভীর উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন। তিশা লিখেন, “আমি মনে করি, এখনই সময় এসেছে আলভীর উচিত যিনি আমাদের মাঝে নেই, তাকে নিয়ে এসব বাজে কথা বলা বন্ধ করা। তার উচিত সেই নারীর প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা রাখা, যিনি তার সন্তানের মা।”
তিশা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি ‘নোংরা খেলা’ চলছে যা দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত। শোবিজের সচেতন মহল মনে করছে, আলভী এবং তার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে মৃত ইকরাকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছেন, যা নীতিগতভাবে চরম অনৈতিক।
পেছনের গল্প: দীর্ঘ গোপনীয়তা ও ট্র্যাজিক মৃত্যু
জাহের আলভী ও ইকরার সম্পর্কের রসায়ন ছিল অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর এই বিয়ের খবরটি গোপন রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালে এসে আলভী নিজেই তাদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন। এই দম্পতির ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
ঘটনার মোড় ঘোরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রহস্যজনক বিষয় হলো, ওই সময় আলভী একটি নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি এক ধরণের অন্তরালে চলে যান এবং হঠাৎ করেই এই বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।
ইন্ডাস্ট্রিতে নৈতিকতার সংকট?
একজন জনপ্রিয় অভিনেতার পক্ষ থেকে মৃত স্ত্রীকে নিয়ে এমন ‘Scandalous’ তথ্য প্রকাশ করাকে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন ‘Showbiz Insider’-রা। সাধারণত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনের এমন কাদা ছোড়াছুড়ি দর্শকদের কাছে ভুল বার্তা দেয়। তাসনুভা তিশার মতো শীর্ষসারির অভিনেত্রীদের এই প্রতিবাদ মূলত ইন্ডাস্ট্রিতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা এবং মৃত মানুষের সম্মান রক্ষার এক জোরালো আহ্বান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইকরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারে কি না এবং আলভীর এই আত্মগোপন ও হঠাৎ সামাজিক মাধ্যমে সরব হওয়া কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না।