রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকলেও তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বনশ্রী, রামপুরা, মালিবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিল, শাহবাগ ও তেজগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এবং তেল নিতে আসা চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
মালিবাগ মোড়ে নিয়মিত রাইড শেয়ারিং করা মোটরসাইকেলচালক শফিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ থাকার কারণে যে দুই-একটি পাম্প খোলা আছে, সেগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সামনে ঈদ থাকায় অনেকেই বাড়ি যাওয়ার জন্য বাড়তি তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। রেশনিং পদ্ধতি চালু হলেও তাতে কোনো কার্যকর ফল মিলছে না।
উত্তরা, মহাখালীসহ অনেক জায়গার পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে যে কয়েকটি পাম্প খোলা আছে, সেগুলোতেই সব গাড়ি এসে ভিড় করছে। বনশ্রী ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেটকারে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদি হাসান বাংলানিউজকে বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো তেল নিতে পারিনি।
আমি ফেনী সদর থেকে ঢাকায় এসেছি। আসার পথে ফেনী থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে তেল পাইনি। ভেবেছিলাম ঢাকায় পাবো, কিন্তু এখানে এসে দেখি অবস্থা আরও খারাপ। জেলার চেয়েও ঢাকায় সংকট বেশি।
হাজীপাড়া পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিচ্ছিলেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসিফ খান।
তিনি বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে চাহিদা। প্রত্যেকে যদি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়, তাহলে সংকট অনেকটাই কমে যাবে। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নিচ্ছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। পরিবাগ পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সমস্যা হতে পারে-এটা আমরা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না যে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বা পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরকার রেশনিং করে বাইকে দুই লিটার তেল দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। ফলে দুই লিটার তেল নেওয়ার জন্যই বিভিন্ন পাম্প ঘুরতে হচ্ছে। তিনি জানান, সকালে উত্তরা থেকে অফিসে আসার পথে উত্তরা, মহাখালী ও তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন পাম্পে তেল পাননি। পরে এখানে এসে তেল পেয়েছেন।
মোটরসাইকেলচালক সোলাইমান সবুজ বলেন, রাজারবাগ পেট্রোল পাম্পে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পরে ফকিরাপুলের একটি পাম্পে এসে তেল নিতে পেরেছেন। তার দাবি, মজুত করে রাখার কারণেই সাধারণ মানুষ তেল পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, রাজারবাগ পাম্পে নাকি পুলিশের জন্য তেল রাখা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য তেল নেই-এমন কথাও শুনেছেন। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।