বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) তত্ত্বাবধানে একটি গোপন ও নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হাউস) রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, ফিলিপাইনের বিপক্ষে আসরের শেষ ম্যাচ খেলার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় খেলোয়াড়রা হোটেল ত্যাগ করেন।
সোমবার রাতে দলের পূর্বনির্ধারিত নৈশভোজের সময় ওই পাঁচ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। মূলত টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অস্ট্রেলীয় সরকার ইরানি দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে আসছিল। সোমবার যখন ইরানি দলের বাকি সদস্যদের গোল্ড কোস্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, ঠিক তার আগেই পুলিশের সহায়তায় এই পাঁচ ফুটবলার নিরাপদ স্থানে সরে যান।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ইরানি খেলোয়াড়দের ওপর চটেছে দেশটির রক্ষণশীল প্রশাসন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে (আইআরআইবি) তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। উপস্থাপক মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধের সময় যারা দেশের বিরুদ্ধে যায়, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ী নিহত হওয়ার পর দেশটির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খেলোয়াড়দের জীবন বাঁচাতে ফিফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে জরুরি বৈঠক চলেছে।
তাদের অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা ছিল, খেলোয়াড়রা এখন ইরানে ফিরলে তাদের ওপর চরম জুলুম ও দমন-পীড়ন চালানো হতে পারে।
এর আগে ২০২২ পুরুষ বিশ্বকাপে কাতারেও ইরানি পুরুষ দল জাতীয় সংগীত না গেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এবার নারী ফুটবলাররা প্রথম ম্যাচে প্রতিবাদ জানালেও পরবর্তীতে হয়তো চাপের মুখে তারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ফুটবলার আর সেই ঝুঁকির মুখে দেশে না ফিরে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।