• আন্তর্জাতিক
  • ইসরাইলের ‘স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ’ নেটওয়ার্কে ধস? তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইসরাইলের ‘স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ’ নেটওয়ার্কে ধস? তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরাইলের ‘স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ’ নেটওয়ার্কে ধস? তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরানের

আইআরজিসির ড্রোন ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড ‘হা’এলা’ কেন্দ্র; তেহরানের দাবি—এটিই ছিল ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের মূল যোগাযোগ মাধ্যম।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি ইসরাইলের ‘নার্ভ সেন্টার’ বা স্নায়ুকেন্দ্রে আঘাত হানার দাবি করল ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হা’এলা’ (Ha’ela) স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তেল আবিবের দক্ষিণে সেদত মিচা এলাকায় অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত।

রণকৌশলগত গুরুত্ব ও আইআরজিসির অভিযান আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের ‘অ্যারোস্পেস ফোর্স’ (Aerospace Force)-এর ড্রোন ইউনিটের একটি বিশেষ অভিযানে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত কেন্দ্রটি ইসরাইলের বিভিন্ন বিমানঘাঁটির সঙ্গে আকাশপথে থাকা যুদ্ধবিমানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করত। এই ‘Satellite Communication’ নেটওয়ার্কটি অকেজো হয়ে পড়ায় ইসরাইলি বিমানবাহিনীর সমন্বিত অপারেশনাল ক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

হিজবুল্লাহর ‘নির্ভুল’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬০ কিলোমিটারের লক্ষ্যভেদ ইরানের এই দাবির সমান্তরালে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহও ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা ‘এলাহ উপত্যকায়’ (Valley of Elah) অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ‘কমিউনিকেশনস ও সাইবার ডিফেন্স ডিভিশন’ (Communications and Cyber Defense Division)-এর স্যাটেলাইট কেন্দ্রে একাধিক ‘প্রিসিশন মিসাইল’ (Precision Missile) বা নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হেনেছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলি বর্বরোচিত হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে। এই হামলাটি ইসরাইলের গভীর অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এক নতুন প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পটভূমি: খামেনির শাহাদাত ও তেহরানের প্রতিশোধ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরান ও আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়। ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্ররা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের ‘স্যাটেলাইট সেন্টার’ ধ্বংসের দাবিটি সেই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতেরই একটি অংশ। যদিও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা ইসরাইলের মতো উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক শক্তির ‘Cyber Defense’ ও স্যাটেলাইট কাঠামোতে আঘাত হানার এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ অপরিহার্য। ফলে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কেবল ইসরাইল নয়, বরং এই অঞ্চলে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের এই ধারাবাহিক আক্রমণ তখনি থামবে যখন অঞ্চলটি থেকে বিদেশি আগ্রাসনের অবসান ঘটবে।

Tags: middle east iran israel tel aviv military conflict hezbollah attack irgc drone satellite center precision missile cyber defense airforce link