• আন্তর্জাতিক
  • ইরানের ‘টার্গেট লিস্টে’ গুগল-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসি-র

ইরানের ‘টার্গেট লিস্টে’ গুগল-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসি-র

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানের ‘টার্গেট লিস্টে’ গুগল-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন টেক জায়ান্টদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসি-র

আঞ্চলিক সংঘাত রূপ নিচ্ছে ‘পরিকাঠামো যুদ্ধে’; দুবাই, আবু ধাবি ও ইসরায়েলে থাকা ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড সার্ভিসে ড্রোন হামলার হুমকি দিয়ে তালিকা প্রকাশ করল তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন আরও প্রখর। দীর্ঘ ১২ দিনে গড়ানো এই সংঘাত এবার কেবল সামরিক ছাউনি বা সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াই এবার সরাসরি আঘাত হানতে যাচ্ছে ডিজিটাল বিশ্বের মেরুদণ্ডে। ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) একটি নতুন ‘Target List’ প্রকাশ করেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিশানায় গুগল থেকে এনভিডিয়া: তালিকায় যেসব ‘টেক জায়ান্ট’ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ (Tasnim News Agency) বুধবার ‘ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু’ শিরোনামে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি মহীরুহদের আঞ্চলিক অফিস, ‘Cloud Service’, ‘Data Center’ এবং ‘Development Center’গুলো এখন ইরানের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু।

তালিকায় বিশেষভাবে নাম রয়েছে গুগল (Google), অ্যামাজন (Amazon), মাইক্রোসফট (Microsoft), এনভিডিয়া (Nvidia), আইবিএম (IBM), ওরাকল (Oracle) এবং পালান্তির টেকনোলজিস (Palantir Technologies)-এর। বিশেষ করে ইসরায়েল, দুবাই এবং আবু ধাবিতে অবস্থিত এই কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এনভিডিয়া বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের ‘AI’ পরিকাঠামো এবং ‘Data Analytics’ সক্ষমতা যুদ্ধের ময়দানে শত্রু পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ ইরানের।

পরিকাঠামো যুদ্ধের নতুন রণকৌশল ইরানি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আঞ্চলিক যুদ্ধ ধীরে ধীরে ‘Infrastructural Warfare’ বা পরিকাঠামো যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। আইআরজিসি-র বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এই মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন আর অসামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হবে না। যুদ্ধের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সিএনএন (CNN) সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে হামলা: অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে ড্রোন হানা ইরানের এই হুমকি কেবল কাগজের তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বাহরাইনে অবস্থিত একটি ‘Amazon Data Center’-এ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরও দুটি অ্যামাজন স্থাপনা ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে, ইরান এখন সরাসরি মার্কিন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্বার্থে আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর।

সংঘাতের ১২তম দিন: রণক্ষেত্র তেহরান থেকে বৈরুত আজ বুধবার (১১ মার্চ) ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ১২তম দিনে পদার্পণ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ১১ দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রে আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও মার্কিন হুঁশিয়ারি সমুদ্রপথেও যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি নিষ্ক্রিয় মাইন বসানো জাহাজ (Mine-laying ships) ধ্বংস করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ইরানকে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গুগল বা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা হলে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ‘Cyber and Physical’ যুদ্ধের সংমিশ্রণ পৃথিবীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Tags: middle east data center international news tech giants iran war hormuz strait irgc targets cyber warfare google amazon cloud computing