• আন্তর্জাতিক
  • হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নাশকতা: তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাত, বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগের ছায়া

হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নাশকতা: তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাত, বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগের ছায়া

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নাশকতা: তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তুর আঘাত, বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগের ছায়া

পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা সংকট তীব্রতর; থাইল্যান্ড, জাপান ও মার্শাল আইল্যান্ডসের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত; নাবিকদের জরুরি উদ্ধার ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) রহস্যময় কোনো বস্তুর আঘাতে সেখানে পরপর তিনটি বড় কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তিনটি জাহাজই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নাবিকদের জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সির (UKMTO) বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

লক্ষ্যবস্তু যখন তিনটি ভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি চালানো হয় থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার (Bulk Carrier) ‘মায়ুরি নারি’-র ওপর। ওমানের উপকূল থেকে মাত্র ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে জাহাজটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতের শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবশ্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় কোনো পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।

দ্বিতীয় হামলার শিকার হয়েছে জাপানের পতাকাবাহী বিশাল কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি গভীর ছিল না এবং সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। বর্তমানে জাহাজটি একটি নিরাপদ নোঙরস্থানের (Safe Anchorage) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তৃতীয় হামলাটি সংঘটিত হয় দুবাই থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘স্টার গুইনেথ’ এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড (Vanguard) জানিয়েছে, জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ক্রু সদস্যরা অক্ষত আছেন।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা হরমুজ প্রণালি কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জীবনরেখা বা ‘Global Supply Chain’-এর অন্যতম প্রধান ধমনী। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান কেন্দ্রিক সংঘাতের জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল এমনিতেই হ্রাস পেয়েছিল। সবশেষ এই হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে পণ্য পরিবহন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠল।

সংঘাতের নতুন কেন্দ্রস্থল সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অজ্ঞাত বস্তুর মাধ্যমে যেভাবে নিখুঁতভাবে জাহাজগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে, তা আধুনিক ‘Drone Attack’ বা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই এলাকায় অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পারস্য উপসাগরে ‘Maritime Security’ জোরদার করার দাবি তুলেছে।

বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি এই হামলা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির এক নতুন ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য একটি ‘Red Alert’ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: maritime security global energy international trade oil supply persian gulf hormuz attack cargo ships uk mto bulk carrier vessel safety