• আন্তর্জাতিক
  • আকাশছোঁয়া শিপিং খরচ ও অচল নৌপথ: ইরান যুদ্ধের চড়া খেসারত দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকে

আকাশছোঁয়া শিপিং খরচ ও অচল নৌপথ: ইরান যুদ্ধের চড়া খেসারত দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকে

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
আকাশছোঁয়া শিপিং খরচ ও অচল নৌপথ: ইরান যুদ্ধের চড়া খেসারত দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকে

জ্বালানি সংকট ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে স্থবির বিশ্ববাণিজ্য; পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়, বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করলেন ‘মার্স্ক’ প্রধান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে লাগতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন বা ‘Logistics’ ব্যয় অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে বিশ্বের কোটি কোটি সাধারণ ভোক্তাকে। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘Shipping Giant’ মার্স্ক (Maersk)-এর প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই অশনিসংকেত দিয়েছেন।

ভোক্তার ওপর বাড়ছে আর্থিক চাপ ভিনসেন্ট ক্লার্কের মতে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ এখন আকাশচুম্বী। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মার্স্ক-এর মতো বড় শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে গ্রাহকদের আগে থেকেই এমন চুক্তি থাকে, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে খরচ সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়। ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে যে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, তা সরাসরি আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর গিয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই বর্ধিত ব্যয়ের বোঝা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাকেই বহন করতে হবে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

অচল ‘গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন’ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান মার্স্ক প্রধান সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধের কারণে বর্তমানে বিশ্বের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ‘Strait of Hormuz’ বা হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকির ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির।

এই সংকট নিরসনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে একটি কার্যকর ‘Grand Bargain’ বা বড় ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিক রুটগুলো সচল না হলে ‘Global Supply Chain’ বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও এসকর্ট প্রত্যাখ্যান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নৌবাহিনীর পাহারায় বা ‘Naval Escort’-এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্স্ক প্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি বা লোহিত সাগরে জাহাজ পাঠাতে রাজি নন। ক্লার্ক বলেন, "আমাদের কাছে সহকর্মীদের নিরাপত্তা এবং জাহাজের সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যতক্ষণ পর্যন্ত ‘Drone Attack’-এর ঝুঁকি থাকবে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা ‘Ceasefire’-এর নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না, ততক্ষণ আমরা কোনো জাহাজকে বিপদের মুখে ঠেলে দেব না।"

সেন্টকমের অভিযান: ধ্বংস ১৬টি ইরানি মাইন জাহাজ এদিকে সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) সাম্প্রতিক এক সামরিক অভিযান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ বা ‘Mine-laying Vessels’ ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের পক্ষ থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাগরে থাকা ইরানি জাহাজগুলোতে একের পর এক নিখুঁত ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমর সজ্জা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের রূপ নিচ্ছে। পণ্য পরিবহনের পথ রুদ্ধ হওয়া এবং শিপিং খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স—সবকিছুর দাম বাড়ার শঙ্কায় দিন গুনছে সাধারণ মানুষ।

Tags: supply chain global economy maritime security drone attack fuel price iran conflict strait of hormuz shipping cost maersk ceo centcom attack