• আন্তর্জাতিক
  • ‘টাইটানিক’ পোজ-এ ট্রাম্প ও এপস্টাইন! ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বিতর্কিত মূর্তি ঘিরে তোলপাড়

‘টাইটানিক’ পোজ-এ ট্রাম্প ও এপস্টাইন! ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বিতর্কিত মূর্তি ঘিরে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘টাইটানিক’ পোজ-এ ট্রাম্প ও এপস্টাইন! ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বিতর্কিত মূর্তি ঘিরে তোলপাড়

‘দ্য কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের এই ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্মে জ্যাক ও রোজের ভঙ্গিতে ধরা দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রয়াত যৌন অপরাধী; নেপথ্যে রহস্যময় সংগঠন ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’।

ওয়াশিংটন ডি.সি.-র হৃদপিণ্ড বলে পরিচিত ‘National Mall’-এ হঠাৎ এক বিস্ময়কর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। মার্কিন রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ঠাঁই পেয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের একটি বিশালাকার মূর্তি। তবে সাধারণ কোনো স্মারক নয়, বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘Titanic’-এর জ্যাক ও রোজের সেই চিরচেনা রোমান্টিক ভঙ্গিতে তৈরি করা হয়েছে এই বিতর্কিত ভাস্কর্যটি। ‘The King of the World’ শিরোনামের এই স্থাপনাটি ঘিরে এখন সরগরম মার্কিন রাজনীতি ও সমাজমাধ্যম।

টাইটানিক থিমে ট্রাম্প-এপস্টাইন রসায়ন পার্থিব ক্ষমতার দম্ভ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক অদ্ভুত মিশেল দেখা গেছে এই মূর্তিতে। জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘টাইটানিক’-এর সেই আইকনিক দৃশ্যকে এখানে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিতে নায়ক জ্যাক যেভাবে নায়িকা রোজকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে দিগন্তের পানে তাকিয়ে ‘আই এম দ্য কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ বলে চিৎকার করেছিলেন, ঠিক সেই একই ভঙ্গিতে এপস্টাইনকে ধরে আছেন ট্রাম্প। দু’জনের মুখেই চওড়া হাসি। সোনালী রঙের এই বিশালাকার মূর্তিতে দেখানো হয়েছে, এপস্টাইন রোজের মতো দুই হাত প্রসারিত করে আছেন আর ট্রাম্প তাকে পেছন থেকে আগলে রেখেছেন।

কেন এই স্থাপনা? ‘বিশ্বের রাজা’র নেপথ্য বার্তা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ন্যাশনাল মলে এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয় এবং আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হবে। মূর্তির পাশে থাকা একটি ফলকে লেখা হয়েছে এক শ্লেষাত্মক বার্তা— “জ্যাক এবং রোজের করুণ প্রেমের গল্পটি ছিল বিলাসিতা, কোলাহলপূর্ণ পার্টি এবং গোপন নগ্ন স্কেচের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা।” এই বর্ণনাটি মূলত ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জেফ্রি এপস্টাইনের মধ্যকার অতীত সুসম্পর্ক ও তাদের ঘিরে থাকা নানা বিতর্কিত অধ্যায়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে। এই ‘Satirical Art’-এর মাধ্যমে ট্রাম্প ও এপস্টাইনের সেই তথাকথিত ঘনিষ্ঠ বন্ধনকে বিদ্রূপাত্মকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

রহস্যময় সংগঠন ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ এই বির্তকিত স্থাপনার নেপথ্যে রয়েছে ‘Secret Handshake’ নামক একটি রহস্যময় সংগঠন। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচয় এখনো অজ্ঞাত। তবে এটিই তাদের প্রথম কাজ নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরেও ন্যাশনাল মলে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ট্রাম্প ও এপস্টাইনের একটি ব্রোঞ্জ রঙের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে তাদের দুজনকে হাত ধরে নাচতে দেখা গিয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল ‘Best Friends Forever’। যদিও মার্কিন পার্ক পুলিশ দ্রুত সেই স্থাপনাটি সরিয়ে ফেলেছিল। এছাড়া এই বছরের শুরুতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এপস্টাইনকে পাঠানো বিতর্কিত জন্মদিনের কার্ডের একটি ১০ ফুট লম্বা সংস্করণও জনসমক্ষে এনেছিল এই সংগঠনটি।

রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও জনমনে প্রতিক্রিয়া মার্কিন গণমাধ্যম ‘The New Republic’-এর মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের অতীত কর্মকাণ্ড ও তার ব্যক্তিগত সংযোগের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘Protest Art’। জেফ্রি এপস্টাইনের মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতীত সখ্যতাকে সাধারণ মানুষের সামনে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতেই এই শিল্পকর্মের আশ্রয় নিয়েছে অজ্ঞাত ওই গোষ্ঠীটি।

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে টাইটানিক জাহাজের ট্র্যাজেডির মতোই, ট্রাম্প ও এপস্টাইনের এই তথাকথিত বন্ধুত্বকে ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে এই মূর্তির মাধ্যমে। ট্রাম্প প্রশাসন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ন্যাশনাল মলে আসা পর্যটক ও পথচারীদের জন্য এই ‘Titanic Pose’ এখন প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

Tags: washington dc jeffrey epstein trump statue titanic pose national mall secret handshake political satire king of the world protest art trump epstein connection