কানাডার বাণিজ্যিক রাজধানী টরন্টোর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মার্কিন কনস্যুলেটে ভয়াবহ বন্দুকধারী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে অতর্কিত এই হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক মিশনে এমন দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় পুরো কানাডা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কড়া নিন্দা জানিয়ে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যরাতের আতঙ্ক: যেভাবে চলল গুলি আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, একটি সাদা রঙের 'Honda CR-V' মডেলের গাড়ি কনস্যুলেট ভবনের সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে দুই জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ‘Handgun’ হাতে নেমে আসে এবং কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হামলার পরপরই তারা দ্রুত গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের প্রধান প্রবেশপথের কাচের দরজায় অন্তত দুটি গুলির গর্ত তৈরি হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগ ও ফেডারেল পুলিশ (Federal Police) ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে।
তদন্তে ফেডারেল পুলিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা এই কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’ (সাবেক টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, “হামলায় কেউ হতাহত হয়নি জেনে আমি স্বস্তি বোধ করছি। তবে কূটনৈতিক স্থাপনায় এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” প্রধানমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Measures) আরও শক্তিশালী করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হামলার প্রকৃত কারণ বা হামলাকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কানাডার ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস ও ফেডারেল পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
ওসলো থেকে টরন্টো: দূতাবাসগুলোতে বাড়ছে হামলার ঝুঁকি টরন্টোর এই হামলার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় বলেই ধারণা করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। গত রোববার (৮ মার্চ) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি রহস্যময় ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই টরন্টোয় এই বন্দুকধারী হামলা বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনার সাথে এই কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আক্রমণের যোগসূত্র থাকতে পারে। নরওয়ে পুলিশও তাদের তদন্তে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিষয়টি অন্যতম দিক হিসেবে বিবেচনা করছে।
টরন্টোর ঘটনার পর থেকে কানাডায় অবস্থিত অন্যান্য দেশের হাই-কমিশন ও এমব্যাসি (Embassy) এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কনস্যুলেট এলাকায় জনসমাগমে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।