পাকিস্তানের শোয়েব আক্তারকে ডাকা হয় ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে।
বাংলাদেশের এখন তো বটেই, সব সময়েরই সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানা। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি রং ছড়াতে শুরু করেছেন। তাঁকে কি তাহলে নিজের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামে ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ নামে ডাকা হবে? ওয়ানডেতে প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার দিন নাহিদের কাছেই ছিল প্রশ্নটা।
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পর সংবাদ সম্মেলনে উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না। আমি নিজেকে মনে করি একটা স্বাভাবিক মানুষ। চেষ্টা করি কীভাবে ভালো ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারব।’
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে বসে কথাগুলো বলার আগে ‘বেশ ভালো’ পারফরম্যান্সই করেছেন নাহিদ। বাংলাদেশ ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। সেখান থেকে ৭ ওভারের স্পেলে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ রানা।
দল থেকে বলা হয়েছিল তুমি মন খুলে বোলিং করো এবং তুমি যে জিনিসটা পারো ওটাই মাঠে এক্সিকিউট করো। নাহিদ রানা এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ের পেছনের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘শুরুতে মোস্তাফিজ ভাই ও তাসকিন ভাই বোলিং করছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম যে উইকেট কেমন আচরণ করছে। তারা তখন বলল যে উইকেটে হিট করলে কিংবা একটা জায়গায় লাইন–লেন্থ মেইনটেইন করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা কঠিন। ওই জিনিসটা শুধু বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি মাঠে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও নাহিদ নিয়মিত খেলেন শুধু টেস্টে। আজকের আগে আরও ৫ ওয়ানডে খেললেও এই সংস্করণে থিতু হতে পারেননি। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দলেও ছিলেন না। এবার ৫০ ওভার ক্রিকেটে ফিরে নাহিদ চান জায়গা ধরে রাখতে, ‘দল থেকে বলা হয়েছিল তুমি মন খুলে বোলিং করো এবং তুমি যে জিনিসটা পারো ওটাই মাঠে এক্সিকিউট করো।’
গতির কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনায় নাহিদ। আজও তাঁর গতি আর বাউন্সারেই পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের দিশাহারা করেছেন। তবে নাহিদ জানালেন তাঁর মনোযোগ বেশি অন্য জায়গায়, ‘গতি জিনিসটা নিয়ে আমি আসলে চিন্তা করি না। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির চেয়ে আপনার স্কিলটা মেটার করে। আমি এই জিনিসটা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।’