• জাতীয়
  • দেয়াল ভেঙে দুই শিশুর এমন মৃত্যুর দায় কার?

দেয়াল ভেঙে দুই শিশুর এমন মৃত্যুর দায় কার?

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
দেয়াল ভেঙে দুই শিশুর এমন মৃত্যুর দায় কার?

ঢাকার উত্তর বাড্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ১০ নম্বর লেন। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলার হাসি-আনন্দে ভরে উঠেছিল এলাকা। কিন্তু হঠাৎই সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় গভীর শোকে। পুরোনো একটি বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে খেলারত দুই শিশুর ওপর।

এতে প্রাণ হারায় আয়েশা মনি (১০) ও নুসরাত জাহান মরিয়ম (৫)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েছেন। কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না, কেউ আবার ছুটে যাচ্ছেন দুই শিশুর বাসায় তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, আশপাশের মানুষের পাশাপাশি এলাকার নারীরাই বেশি ভিড় করেছেন—শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

অনেকের কণ্ঠেই ছিল ক্ষোভ আর বেদনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছিলেন, ‘দেয়াল ভেঙে এভাবে মৃত্যুর দায় কার?’ আবার কেউ বলছিলেন, ‘এই পরিবারের অবস্থা কল্পনাও করা যায় না, বাবা-মায়ের কলিজা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে।’

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘গরিব মানুষের মৃত্যুর যেন কোনো বিচারই নেই। ’ দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকেই ছুটে এসেছেন পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের অধিকাংশই নিহত শিশুদের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, কিন্তু মানবিক টানে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

স্থানীয় থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় যাদের অবহেলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুদুটি ঘটনাস্থলে খেলছিল বা বসে ছিল। ঠিক সেই সময় পুরোনো একটি দেয়াল ধসে তাদের ওপর পড়ে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু দুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বেলা দেড়টার দিকে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আয়েশার বাবা মো. ইকবাল জানান, তারা থাকেন ৮ নম্বর লেনে। তাদের পাশের বাড়িতেই থাকে মরিয়মের পরিবার। তিনি বলেন, দুপুরে বাসায় ছিলেন তিনি। তখন রাস্তায় খেলছিল শিশু দুটি। তাদের পাশেই একটি পুরোনো বাড়ি ভেঙে নতুন করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু বাড়িটির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙা হয়নি। ভেতরে ওয়ালের পাশে রাখা ছিল ইট ও বালু। শিশুদুটি যখন ঠিক ওয়ালের পাশে রাস্তায় খেলছিল, তখনই হঠাৎ সেই পুরোনো দেয়ালটি ধসে তাদের ওপর পড়ে।

“চাপা পড়ে যায় দুজনই। পথচারীরা দৌড়ে এসে দেয়ালের নিচ থেকে তাদের বের করে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন,” বলেন ইকবাল।

তিনি জানান, এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেঝো ছিল আয়েশা। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়।

অন্যদিকে, নিহত নুসরাত জাহান মরিয়মের বাবা রাজমিস্ত্রী মো. শরিফ জানান, মরিয়ম ছিল তার একমাত্র সন্তান। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শালুয়াদি গ্রামে।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমীন বলেন, “ফুটফুটে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত করে যার যার অবহেলা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বাড়ি ভাঙা ও নতুন নির্মাণকাজ চলছিল। পুরোনো দেয়াল যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়নি। এই অবহেলার কারণেই দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tags: মৃত্যু শিশু দেয়াল ভেঙে