• দেশজুড়ে
  • ফতুল্লায় পাইলিংয়ের সময় লোহার পাইপ পড়ে শিশুর মৃত্যু, ‘মীমাংসার চেষ্টা’

ফতুল্লায় পাইলিংয়ের সময় লোহার পাইপ পড়ে শিশুর মৃত্যু, ‘মীমাংসার চেষ্টা’

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ফতুল্লায় পাইলিংয়ের সময় লোহার পাইপ পড়ে শিশুর মৃত্যু, ‘মীমাংসার চেষ্টা’

“তারা আমারে তিন লাখ টাকা সাধছে। আমি টাকা দিয়া কী করমু?”

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করার সময় লোহার পাইপ পড়ে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবন মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় তাঁতীদল নেতা মধ্যস্থতা করে টাকার বিনিময়ে ক্ষতিপূরণের ‘মীমাংসা’ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন।

নিহত শিশু মুনতাসীর ইসলাম হামজা ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে। শিশুটির ডাকনাম ইয়াছিন।

রুবেল আশেপাশের জেলায় ঘুরে পাপড় ভাজা বিক্রি করেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দক্ষিণ সস্তাপুরের বুড়ির দোকান এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস থাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, “নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। এ সময় শিশুটি ওই জায়গা দিয়ে যাবার সময় একটি লোহার পাইপ পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।”

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু আগেই হয়েছিল বলে জানান।

শিশুটির বাবা রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কাজে কুমিল্লা ছিলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আসেন। তাকে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে ‘মীমাংসার প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবন মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল। স্থানীয় মসজিদে আলাপের পর তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দেওয়ার কথা জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

রুবেল বলেন, “উজ্জ্বল ভাই ঠিকাদারের সঙ্গে মসজিদে বসছিল। এলাকার আরও লোকজন ছিল। তারা আমারে তিন লাখ টাকা সাধছে। আমি টাকা দিয়া কী করমু? আমার রাজপুত্রের মতো পোলাডাই যেইখানে নাই।”

তাঁতীদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রতিবেশী। এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পরিবারটাও গরীব। বাচ্চা তো আর ফেরত দেওয়া যাইবো না। তাই ঠিকাদার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করছে।”

ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, “কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পাইলিং-এর কাজ চলছিল। এখানে ঠিকাদার ও ভবন মালিকের অবহেলা ছিল।”

“আমরা মীমাংসার চেষ্টা বা টাকা দেবার প্রস্তাবের বিষয়টি শুনিনি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পোস্টমর্টেম করতে চাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tags: ফতুল্লায় পাইলিংয় লোহার পাইপ শিশুর মৃত্যু মীমাংসার চেষ্টা