• দেশজুড়ে
  • কথা হলো তারাবির পরও, সেহরিতে এলো আগুনে পুড়ে মৃত্যুর খবর

কথা হলো তারাবির পরও, সেহরিতে এলো আগুনে পুড়ে মৃত্যুর খবর

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
কথা হলো তারাবির পরও, সেহরিতে এলো আগুনে পুড়ে মৃত্যুর খবর

তারাবির নামাজের পর ঈদের কেনাকাটাসহ নানা বিষয়ে ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সদর আলী (৫০)। কয়েক ঘণ্টা পর সেহরি খাওয়ার সময়ই মালদ্বীপ থেকে আসে তার মৃত্যুর সংবাদ।

মুহূর্তেই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পরিবার।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির একজন সদর আলী।

তিনি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মহব্বতখানী গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে। পরিবারের অভাব ঘোচাতে দুই বছর আগে মালদ্বীপে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। আজ সেখান থেকেই এলো আগুনে পুড়ে মৃত্যুর খবর।

সদর আলীর তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে রিয়া আক্তার বানিয়াচংয়ের আলী সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে পড়ছেন।

মেজো মেয়ে এলিজা আক্তার ও ছোট ছেলে উদয় মিয়া ডা. ইলিয়াছ একাডেমিতে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই প্রবাসীর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সদর আলীর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তিন সন্তানের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

ঘরে থাকা স্বজন ও পরিচিতজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারাবির নামাজ শেষে ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলেন সদর আলী।

ঈদের কেনাকাটাসহ পরিবারের নানা বিষয় নিয়ে সবার সঙ্গে কথা হয় তার। কয়েক ঘণ্টা পর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে বসে সেহরি খাচ্ছিলেন। এসময় মালদ্বীপ থেকে সদর আলীর নম্বর থেকে একটি কল আসে। বড় মেয়ে কল ধরেন। পরে পরিবারের একজন পুরুষ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ছেলে উদয় কথা বলেন।

তখন তার কাছে সদর আলীর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। খবর শুনে খাবার ফেলে সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশী মোবাশ্বির আহমেদ মজনু বলেন, সদর আলীর প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। দুই বছর আগে মালদ্বীপ গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ নেন। যে টাকা আয় করতেন, তার প্রায় পুরোটাই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচে ব্যয় হতো। ঋণের বোঝাও আগের মতোই রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সদর আলীর মৃত্যুতে পরিবার এখন অকূল পাথারে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাই।

Tags: আগুন কথা হলো তারাবি সেহরিতে পুড়ে মৃত্যুর খবর