দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে গত কয়েকদিন ধরেই একটি খবর বেশ চাউর হয়েছে—আর্থিক সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। এমনকি দৈনন্দিন খরচ মেটাতে নাকি ব্যাংকে রাখা ফিক্সড ডিপোজিট বা ‘FDR’ ভাঙতে হচ্ছে বোর্ডকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এবার সেই গুঞ্জন ও অভিযোগকে স্রেফ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, তাদের আর্থিক কাঠামো পুরোপুরি শক্তিশালী এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গুঞ্জনের মূলে সাবেক পরিচালকের মন্তব্য
বিসিবির আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে এই আলোচনার সূত্রপাত মূলত সাবেক পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার একটি বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। সম্প্রতি এই ক্রীড়া সংগঠক দাবি করেন, বর্তমান বোর্ড নতুন করে কোনো ‘Revenue’ বা আয় করতে পারছে না। ফলে ব্যাংকে জমা রাখা ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা খরচ করেই বর্তমান পর্ষদকে টিকে থাকতে হচ্ছে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিসিবির ‘Financial Management’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিসিবির কড়া প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা
শনিবার (১৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব দাবির কঠোর প্রতিবাদ জানায় বিসিবি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে বোর্ডের দৈনন্দিন খরচ পরিচালনার জন্য এফডিআরের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিসিবি এই দাবি স্পষ্টভাবে খণ্ডন করছে। এমন খবর পুরোপুরি কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, বিসিবির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর (Control Structure) মধ্যে থেকেই সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইভেন্ট, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি (Commercial Deals) থেকে বিসিবির নিয়মিত আয় অব্যাহত রয়েছে। এই শক্তিশালী ‘Revenue Stream’ বা আয়ের উৎসের কারণে বোর্ডের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।
আর্থিক সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা
বিসিবি দাবি করেছে, তারা দেশের অন্যতম ধনী ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ক্রীড়া সংস্থা। বোর্ডের নিজস্ব তহবিল এবং বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক ব্যয় মেটানো সম্ভব। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, আইসিসি (ICC) থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ এবং ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আসা অর্থ দিয়েই বিসিবির বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। তাই ‘FDR’ ভেঙে খরচ চালানোর মতো কোনো সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছে বিসিবি। বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, 'বিসিবি সব সময় স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করার আগে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা উচিত। অসত্য সংবাদ দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।'
বিসিবির এই স্পষ্ট বার্তার পর ফিক্সড ডিপোজিট সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বোর্ড কেবল জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নয়, বরং প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করছে।