সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলী ফিরিয়ে আনতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার কেবল ইসলাম শিক্ষা নয়, বরং দেশের বিদ্যমান সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষার প্রসারে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য নতুন নীতিমালা শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকেও একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মানোন্নয়ন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে সরকার এই মুহূর্তে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মানোন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ভবিষ্যতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এমপিওভুক্তির বিষয়ে নতুন ঘোষণা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার পুনরায় এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুলে থাকা আবেদনগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হবে।
উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই সংসদ অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কার্য উপদেষ্টা কমিটি।