• জাতীয়
  • বসিলা থেকে ৪ যাত্রী নিয়ে প্রথম যাত্রা: প্রচারণার অভাবে কি জমছে না নতুন নৌপথ?

বসিলা থেকে ৪ যাত্রী নিয়ে প্রথম যাত্রা: প্রচারণার অভাবে কি জমছে না নতুন নৌপথ?

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
বসিলা থেকে ৪ যাত্রী নিয়ে প্রথম যাত্রা: প্রচারণার অভাবে কি জমছে না নতুন নৌপথ?

মোহাম্মদপুর ও মিরপুরবাসীর জন্য নৌ-যোগাযোগে নতুন দিগন্ত বসিলা ঘাট; তবে প্রথম দিনে এমভি ইমাম হাসান-৫ এর যাত্রা শুরু হলেও প্রকট হয়ে উঠেছে যাত্রী সংকট।

ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য যাতায়াতের নতুন এক দ্বার উন্মোচিত হলো বসিলা নৌ-টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে। তবে বর্ণাঢ্য সূচনার প্রথম দিনেই দেখা গেল এক হতাশাজনক চিত্র। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯টায় বসিলা-সদরঘাট-শরীয়তপুর রুটে এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি যখন তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন চালু করে, তখন বিশাল এই নৌযানে যাত্রী ছিলেন মাত্র ৪ জন। শরীয়তপুর ঈদগাহ ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই লঞ্চটিকে ঘিরে স্থানীয়দের কৌতূহল থাকলেও যাত্রী হিসেবে সওয়ার হওয়ার হার ছিল নগণ্য।

প্রচারণার ঘাটতি ও কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ

লঞ্চটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হাসান আহমেদ এই জনশূন্য যাত্রার জন্য অপর্যাপ্ত প্রচারণাকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, "আমরা মাত্র ৪ জন যাত্রী নিয়ে রওয়ানা দিচ্ছি। আশা করছি সদরঘাটে পৌঁছালে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে। গত শনিবার আমরা নিজেরাও জানতাম না যে এই ঘাট থেকে যাত্রা শুরু হবে। আমরাই যদি না জানি, তবে সাধারণ যাত্রীরা জানবেন কীভাবে? এই নতুন সার্ভিসের জন্য ব্যাপক Publicity বা প্রচারণার প্রয়োজন ছিল।" তিনি মনে করেন, সঠিক বিপণন কৌশল থাকলে মোহাম্মদপুর বা সাভার অঞ্চলের মানুষ সদরঘাটের যানজট এড়িয়ে সহজেই এই সুবিধা গ্রহণ করতেন।

কানেক্টিভিটি ও বিআইডব্লিউটিএ-র পরিকল্পনা

বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) পরিদর্শক মামুনুর রশীদ অবশ্য এই রুটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তার মতে, মোহাম্মদপুর, সাভার, মিরপুর, গাবতলী ও আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বসিলা ঘাটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ Transportation Hub হয়ে উঠতে পারে। তিনি জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে যাত্রীদের সুবিধার্থে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া রাখা হয়েছে।

মামুনুর রশীদ আরও বলেন, "সাময়িকভাবে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস হিসেবে এই ঘাটটি চালু করা হয়েছে। তবে যাত্রী সমাগম বাড়লে এটি স্থায়ী টার্মিনাল হিসেবে রূপ পেতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও Social Media-র মাধ্যমে প্রচার চালানো হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং তারা এই রুট ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।"

যাত্রীদের প্রত্যাশা ও রুট বিভ্রাট

সরেজমিনে বসিলা ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে যাত্রীর চেয়ে উৎসুক জনতার ভিড়ই বেশি। অনেকেই লঞ্চ দেখতে এসেছেন, কিন্তু তাদের গন্তব্য ভিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন আক্তার জানান, তিনি দেখতে এসেছেন ভোলার লালমোহন রুটের কোনো লঞ্চ এখান থেকে ছাড়বে কি না।

আরেক দর্শনার্থী রফিকুল ইসলামের মতে, এই ঘাটে যাত্রী বাড়াতে হলে রুট পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত করতে হবে। তিনি বলেন, "ঘোষের হাট, লালমোহন বা নাজিরপুর ঘাটের লঞ্চগুলো এখান থেকে ছাড়লে যাত্রীর অভাব হতো না। বিশেষ করে বেতুয়া রুটের লঞ্চ থাকলে বসিলা ঘাটের দৃশ্যপট পাল্টে যেত।"

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে নৌপথকে প্রাধান্য দেওয়া সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। বসিলা থেকে শরীয়তপুর বা দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ চালু হওয়া সেই পরিকল্পনারই অংশ। তবে যথাযথ Logistics এবং যাত্রীবান্ধব রুট নির্বাচন না করা হলে এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতত ৪ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, লঞ্চ মালিক ও বিআইডব্লিউটিএ উভয়েই এখন তাকিয়ে আছেন সদরঘাট ও পরবর্তী ট্রিপগুলোর দিকে।

Tags: bosila terminal launch service