• জাতীয়
  • মেগা ছুটি শুরু: টানা সাত দিনের ‘রাজকীয়’ অবকাশে দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল

মেগা ছুটি শুরু: টানা সাত দিনের ‘রাজকীয়’ অবকাশে দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মেগা ছুটি শুরু: টানা সাত দিনের ‘রাজকীয়’ অবকাশে দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল

শবে কদর দিয়ে সূচিত এই মহা-ছুটি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত; ১৮ মার্চ বিশেষ ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খুশির জোয়ার

উৎসবের আমেজে দীর্ঘ অবকাশ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পবিত্র শবে কদরের নির্ধারিত সরকারি ছুটির মধ্য দিয়ে এই মহোৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। দীর্ঘ সময় পর এমন টানা ছুটির সুযোগ মেলায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের মাঝে বইছে আনন্দের হিল্লোল। মূলত নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই সরকারের এই বিশেষ ‘Holiday Policy’ বা ছুটির বিন্যাস।

নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ: বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে জনস্রোত

সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল পবিত্র ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। দাপ্তরিক কাজ শেষ হতে না হতেই রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল বা ‘Exodus’ শুরু হয়েছে। বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন এবং লঞ্চঘাটগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ সকল ক্লান্তি উপেক্ষা করে ছুটছে নিজ নিজ গন্তব্যে। সড়কপথের চাপ সামলাতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো।

যেভাবে পূর্ণতা পেল সাত দিনের ছুটির সমীকরণ

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (Ministry of Public Administration) প্রথমে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটির সূচি নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদের মূল ছুটি এবং বাকি দিনগুলো ছিল নির্বাহী আদেশে দেওয়া অবকাশ।

তবে শবে কদরের ১৭ মার্চের ছুটি এবং ১৯ মার্চের নিয়মিত ছুটির মাঝে ১৮ মার্চ (বুধবার) একমাত্র কর্মদিবসটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ৫ মার্চের মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Cabinet Meeting) ১৮ মার্চকেও সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করলে টানা সাত দিনের মেগা ছুটির পথ প্রশস্ত হয়।

ছুটির আওতামুক্ত জরুরি সেবাগুলো

দীর্ঘ এই মেগা ছুটি কার্যকর হলেও দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু জরুরি সেবাকে (Emergency Services) এই আদেশের বাইরে রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এই ছুটির আওতাভুক্ত হবে না। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা, ডাক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রেখে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধ বহনকারী যানবাহনগুলো এই দীর্ঘ ছুটির দিনেও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

Tags: bangladesh news public administration dhaka city eid holiday travel news executive order cabinet meeting seven days eid exodus emergency services eid vacation homebound people.