আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দীর্ঘ বিরতিতে বন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। মূলত বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং কর্মকর্তাদের উৎসব পালনের সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত
সোনাহাট স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (C&F Agent Association) এক সাম্প্রতিক মাসিক সভায় ছুটির এই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম আকমল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে উৎসবকালীন এই Trade বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ছুটির সময়সূচি ও কার্যক্রম স্থগিত
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিন সোনাহাট স্থলবন্দরের সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি (Import-Export) কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে বন্দর চত্বরে পণ্য লোড-আনলোড এবং ভারতীয় ট্রাকের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তবে অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কিছু কাজ সীমিত পরিসরে চলতে পারে।
পুনরায় চালুর তারিখ ও প্রস্তুতির নির্দেশনা
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ ১০ দিনের এই ছুটি শেষে আগামী ২৮ মার্চ থেকে বন্দর পুনরায় কর্মমুখর হয়ে উঠবে। ওই দিন সকাল থেকেই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সকল দাপ্তরিক Activity স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সকল আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং স্টেকহোল্ডারদের এই সময়সূচি অনুযায়ী তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্যে সোনাহাট বন্দরের গুরুত্ব
সোনাহাট স্থলবন্দর উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার, যা মূলত ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। কয়লা, পাথরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানিতে এই বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসবে বন্দর বন্ধ থাকলে সাময়িকভাবে Supply Chain-এ কিছুটা প্রভাব পড়লেও, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও ধর্মীয় চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিবছর এ ধরনের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ছুটির পর পুনরায় বন্দর চালু হলে বাণিজ্যিক গতিশীলতা আরও বাড়বে এবং জমে উঠবে সীমান্ত বাণিজ্য।