• দেশজুড়ে
  • মৌলভীবাজারে ভ্রাতৃঘাতী হামলার নৃশংস পরিণতি: ৫ দিনের মাথায় কুমিল্লা থেকে ঘাতক ভাই গ্রেফতার

মৌলভীবাজারে ভ্রাতৃঘাতী হামলার নৃশংস পরিণতি: ৫ দিনের মাথায় কুমিল্লা থেকে ঘাতক ভাই গ্রেফতার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মৌলভীবাজারে ভ্রাতৃঘাতী হামলার নৃশংস পরিণতি: ৫ দিনের মাথায় কুমিল্লা থেকে ঘাতক ভাই গ্রেফতার

শিশুদের খেলা নিয়ে তুচ্ছ বিবাদ গড়িয়েছিল রক্তক্ষয়ী সংঘাতে; ইফতারের আগে ছোট ভাইকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার বড় ভাইয়ের।

মৌলভীবাজারের সদর উপজেলায় পবিত্র রমজানের ইফতারের আগমুহূর্তে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছোট ভাই তামিম মিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার ৫ দিনের মাথায় ঘাতক বড় ভাই হানিফ মিয়াকে কুমিল্লার সংরাইশ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) এক ঝটিকা অভিযানে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত

ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ মার্চ বিকেলে মৌলভীবাজার শহরতলির ফাটাবিল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের খেলাধুলা নিয়ে পরিবারের ভেতরেই ছোটখাটো ঝগড়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে সেই তুচ্ছ বিবাদই রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। বড় ভাই হানিফ মিয়া ঘটনাস্থলে এসে ছোট ভাই তামিম মিয়ার ওপর চড়াও হন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হানিফ তার কাছে থাকা একটি ধারালো চাকু দিয়ে তামিমের গলায় আঘাত করেন।

রক্তাক্ত অবস্থায় তামিমকে দ্রুত মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক হানিফ মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ও প্রযুক্তিগত তদন্ত

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মো. আমিনুল ইসলাম তদন্তে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। ঘাতক হানিফ মিয়া গ্রেফতার এড়াতে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

পুলিশের একটি চৌকস দল ‘Information Technology’ বা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান শনাক্ত করে। সোমবার কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি থানার সংরাইশ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্বীকারোক্তি ও আলামত উদ্ধার

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক হানিফ মিয়া তার ছোট ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি ব্রিজের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই ধারালো চাকুটি উদ্ধার করেছে। এছাড়া অপরাধ সংগঠনের সময় তার পরিহিত রক্তমাখা পোশাকও জব্দ করা হয়েছে।

ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, "আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তুচ্ছ আবেগ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি এই অপরাধ ঘটিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"

পারিবারিক কলহের জেরে এমন অকাল মৃত্যু ও সহোদরের হাতে সহোদর খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশি তৎপরতায় ঘাতক গ্রেফতার হওয়ায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, এ ধরনের সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

Tags: law enforcement police arrest information technology crime update homicide case moulvibazar news brother murder hanif mia cumilla raid judicial process