দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর দ্বারে সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই আনন্দময় ক্ষণে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনআকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ ও আগামীর প্রত্যাশা বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি এমন এক সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক সরকারের পতনের কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, দেশে আর কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে কথা বলতে পারবে এবং জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জামায়াত আমির তার বক্তব্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ত্যাগের মহিমা যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, তাদের স্মরণে ডা. শফিকুর রহমান মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা জানান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সমাজ গঠনের ডাক ঈদুল ফিতরকে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরির দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণ শেষে ঈদ আমাদের মাঝে আসে। তিনি সবাইকে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সমাজের অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।