• আন্তর্জাতিক
  • কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা

রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর; উত্তেজনার মুখে ইরানি কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করল কাতার।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা

কাতারের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের এই দফায় দফায় হামলায় গ্যাসক্ষেত্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার সরকার ও কাতারএনার্জি। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) এবং বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে চালানো এই হামলায় বেশ কিছু এলএনজি স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল। সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রাস লাফান ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বহিষ্কার এই হামলাকে কাতার তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাতার সরকার একটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দোহায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কাতার ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, জাপান, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো যারা সরাসরি কাতারি এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, তারা মারাত্মক সংকটে পড়বে। এছাড়া গ্লোবাল সাউথের দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোও এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।

সৌদি ও আমিরাতেও হামলার চেষ্টা শুধু কাতার নয়, ইরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরবের রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

Tags: geopolitics iran middle east crisis qatar missile attack lng ras laffan energy market