মার্চের শেষার্ধে বাংলাদেশের আকাশ যেন এক মহাজাগতিক থিয়েটারে পরিণত হয়েছে। দিনের উত্তাপ শেষে রাতের স্বচ্ছ আকাশে চোখ মেললেই দেখা যাচ্ছে বিস্ময়কর সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মাসের শেষ দিন পর্যন্ত মোট পাঁচটি বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
১. গ্রহের রাজকীয় কুচকাওয়াজ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'প্ল্যানেট প্যারেড' বা গ্রহের সারিবদ্ধ অবস্থান মার্চের শেষভাগেও বজায় থাকবে। সূর্যাস্তের ঠিক পরেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে শুক্র গ্রহ। এর খুব কাছেই অবস্থান করছে বুধ গ্রহ। সাধারণত সূর্যের কাছাকাছি থাকায় বুধকে দেখা কঠিন হলেও মার্চে একে গোধূলিবেলায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মাঝ আকাশে আধিপত্য বিস্তার করবে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। অন্যদিকে, শেষ রাতে পূর্ব আকাশে বলয়ধারী গ্রহ শনির উপস্থিতি দেখা যাবে।
২. মহাজাগতিক মিলন ও চাঁদের পথচলা ২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে দেখা যাবে আকাশের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য। এ সময় চাঁদের সরু ফালি একে একে বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ক্রিসেন্ট মুন শুক্র ও বুধের খুব কাছে অবস্থান করবে। ২৫ মার্চ চাঁদ চলে আসবে বৃহস্পতির ঠিক কাছাকাছি। উজ্জ্বল বৃহস্পতি আর রুপালি চাঁদের এই সহাবস্থান কোনো যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে উপভোগ করা যাবে।
৩. বসন্তকালীন বিষুব ২০ মার্চ পালিত হবে বসন্তকালীন বিষুব। এদিন সূর্য ঠিক পূর্ব দিকে উদিত হবে এবং পশ্চিমে অস্ত যাবে, যার ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হবে। বাংলাদেশ বিষুবরেখার কাছাকাছি হওয়ায় এই পরিবর্তনটি এ দেশের আকাশে স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। এটি মূলত ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
৪. নক্ষত্রপুঞ্জ ও ছায়াপথের উজ্জ্বলতা মার্চের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশের ঠিক উপরে 'কালপুরুষ' নক্ষত্রপুঞ্জ দেখা যাবে। এর তিনটি তারার সারি বা বেল্ট সহজেই চেনা যায়। কালপুরুষের নিচে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে দেখা যাবে লুব্ধক (সাইরাস), যা রাতের আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। এছাড়া উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল বা আরসা মেজর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
৫. দেখার উপযুক্ত সময় ও পদ্ধতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গ্রহ দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। গ্রহগুলো খালি চোখে দেখা গেলেও শনির বলয় বা বৃহস্পতির উপগ্রহগুলো দেখার জন্য অন্তত ১০×৫০ ক্ষমতার একটি বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করা ভালো। আলোকমুক্ত খোলা জায়গা বা বাড়ির ছাদ থেকে পশ্চিম আকাশ পর্যবেক্ষণ করলে এই মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো সবচেয়ে ভালো উপভোগ করা যাবে।