• জাতীয়
  • ঈদের পর বদলে যাবে ঢাকা: মশা, যানজট ও আবর্জনামুক্ত মহানগরী গড়তে ‘সামাজিক আন্দোলনে’র ডাক ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঈদের পর বদলে যাবে ঢাকা: মশা, যানজট ও আবর্জনামুক্ত মহানগরী গড়তে ‘সামাজিক আন্দোলনে’র ডাক ডিএসসিসি প্রশাসকের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ঈদের পর বদলে যাবে ঢাকা: মশা, যানজট ও আবর্জনামুক্ত মহানগরী গড়তে ‘সামাজিক আন্দোলনে’র ডাক ডিএসসিসি প্রশাসকের

মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিকল্পনার কথা জানালেন আব্দুস সালাম; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য করার প্রত্যয়।

ঈদের ছুটির আমেজ কাটতেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকাকে এক নতুন ও আধুনিক রূপ দেওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকাকে সম্পূর্ণ মশকযুক্ত, যানজটমুক্ত এবং আবর্জনামুক্ত করার লক্ষ্যে ডিএসসিসি’র উদ্যোগে ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পারস্পরিক সহযোগিতায় একটি বৃহত্তর ‘সামাজিক আন্দোলন’ (Social Movement) গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ উপহার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন।

পরিচ্ছন্ন ও সচল ঢাকার নতুন রূপরেখা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, একটি Megacity হিসেবে ঢাকার প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “আমরা ঢাকা শহরটাকে সত্যিকারের বাসযোগ্য মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ঈদের পর থেকে মশক নিধন, যানজট নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (Waste Management) আমরা বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করব। তবে এই কর্মযজ্ঞের সফলতার জন্য স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এলাকাভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ অপরিহার্য।”

জনগণের অংশগ্রহণ ও সামাজিক আন্দোলন প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগ করা হলেও, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে স্থায়িত্বশীল পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন মানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সাথে নিয়ে ডিএসসিসি সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হাজারীবাগের স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন আব্দুস সালাম। এদিন এলাকার প্রায় ২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, “উৎসবের দিনে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে এবং আনন্দের অংশীদার হতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ডিএসসিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই নতুন উদ্যোগ কতটুকু সফল হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী। তবে প্রশাসকের এই জোরালো আহ্বান ঢাকার Civic Responsibility বা নাগরিক দায়িত্বের জায়গাটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags: dhaka dscc news