কাতার বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৮২ দিন। যখন প্রতিটি দল তাদের চূড়ান্ত রণকৌশল সাজাতে এবং স্কোয়াডের শক্তি পরখ করে নিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বড় এক দুঃসংবাদ এলো ব্রাজিল শিবিরে। চোটের কারণে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রীতি ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ব্রাজিলের এক নম্বর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) অ্যালিসনের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রক্ষণভাগে বড় শূন্যতা: কেন এই ম্যাচ দুটি গুরুত্বপূর্ণ? আগামী ২৬ মার্চ প্যারিসে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। এর মাত্র পাঁচ দিন পর, ৩১ মার্চ তারা মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের আগে ইউরোপীয় পাওয়ারহাউজগুলোর বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা যাচাই করার এই সুযোগটি ব্রাজিলের জন্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পোস্টের নিচে অ্যালিসনের মতো একজন ‘নির্ভরযোগ্য দেয়াল’ না থাকা কোচিং স্টাফদের জন্য নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যালিসনের অনুপস্থিতিতে গোলবারের দায়িত্ব সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে দলে ডাকা হয়েছে উদীয়মান গোলরক্ষক হুগো সোসাকে।
পুনরাবৃত্ত চোট এবং ক্লাব ফুটবলের প্রভাব চলতি মৌসুমে লিভারপুলের জার্সিতে অ্যালিসন বেকারের পারফরম্যান্স বরাবরের মতোই উজ্জ্বল হলেও তার শরীরী ভাষা এবং ফিটনেস নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। পেশির চোট বা Muscle Injury যেন তার পিছু ছাড়ছেই না। গত ১০ মার্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) শেষ ১৬-র প্রথম লেগের ম্যাচে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষেও তিনি মাঠে নামতে পারেননি। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যালিসনকে ছাড়া লিভারপুল ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। যদিও ফিরতি লেগে অলরেডরা ৪-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে, তবে অ্যালিসনের ধারাবাহিক চোট ক্লাব ও জাতীয় দল—উভয় পক্ষের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের শঙ্কা: ফিটনেস কি ভোগাবে বিশ্বকাপে? অ্যালিসনের চোটের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন মৌসুমে হ্যামস্ট্রিং (Hamstring) এবং পেশির সমস্যার কারণে তিনি প্রায় ৫০টিরও বেশি ম্যাচ মিস করেছেন। গত অক্টোবর ও নভেম্বরেও একই কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে তাকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছিল। একজন গোলরক্ষকের জন্য এই ধরনের ধারাবাহিক ইনজুরি কেবল তার ব্যক্তিগত ছন্দই নষ্ট করে না, বরং রক্ষণের সাথে বোঝাপড়াতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে তার এই চোট ব্রাজিলের ‘ক্লিন শিট’ (Clean Sheet) ধরে রাখার অভিযানে বড় অন্তরায় হতে পারে।
তরুণদের জন্য সুযোগ, নাকি অভিজ্ঞতার সংকট? অ্যালিসনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া হুগো সোসার সামনে এখন নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ। তবে ফ্রান্সের এমবাপ্পে বা ক্রোয়েশিয়ার মদ্রিচদের মতো বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডারদের সামলানো তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রীতি ম্যাচ হলেও এই জয়-পরাজয় দলের ‘মর্যাল’ বা মানসিক শক্তিতে বড় প্রভাব ফেলে। এখন দেখার বিষয়, অ্যালিসন বিহীন ব্রাজিল রক্ষণভাগ কীভাবে এই কঠিন পরীক্ষা পার করে।
tags: alisson becker, brazil football, injury update, friendly match, world cup, hugo souza, liverpool fc, football news