মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আসা পবিত্র ঈদুল ফিতর মাদারীপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় মাদারীপুর কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ ময়দানে জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের আলো ফুটতেই সাদা শুভ্র পোশাকে হাজার হাজার মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।
শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত মাদারীপুরের প্রধান এই জামাতে ইমামতি করেন আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান। নামাজ শেষে খুতবায় ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত, যেখানে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়। মোনাজাত শেষে চিরাচরিত বাঙালির ঐতিহ্য অনুযায়ী মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার নামাজে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাদারীপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নামাজ পরবর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর 'Commitment' বা প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত জরুরি। বিএনপির ৩১ দফা উন্নয়ন রূপরেখা বা 'Development Roadmap' বাস্তবায়নের সুফল ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের মায়েদের জন্য 'Family Card' এবং কৃষকদের জন্য 'Agriculture Card' নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে কৃষকদের 'Agricultural Loan' বা কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তকে তিনি বর্তমান সময়ের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা জাহান্দার আলী মিয়া তার বক্তব্যে দাবি করেন, দেশে বর্তমানে এক ধরনের স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এখন সামাজিক নিরাপত্তা বা 'Social Security' অনুভব করছে, যার ফলে নির্ভয়ে উৎসব পালন করা সম্ভব হচ্ছে।
গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ঈদের এই প্রধান জামাতে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামিনের হোসেন মিঠু, মিজানুর রহমান মুরাদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ এনায়েত হোসেন। এছাড়াও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান শিকদারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এই বৃহৎ জমায়েতে অংশ নেন।
মাদারীপুরের প্রতিটি উপজেলা ও পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোতেও পৃথক পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Protocol) জোরদার করা হয়েছিল, যাতে উৎসবের আনন্দ বিঘ্নিত না হয়।