রাজধানীর হাজারীবাগে এক জমকালো ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় হাজারীবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিএনপি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নীতিতে বিশ্বাসী নয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, “বিএনপি কোনো চাপিয়ে দেয়া রাজনীতি বা ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করে না। আমাদের আদর্শের মূলে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো সম্প্রীতির পথ। বিএনপি এবং বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে এক জাতি হিসেবে দেশের উন্নয়নে অংশ নেবে।”
তাঁর মতে, অসাম্প্রদায়িক এই ‘Communal Harmony’ বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য। দেশের কোনো নাগরিক যেন ধর্মের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (Top Priority) দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় উন্নয়ন ও দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি হাজারীবাগের স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, “আমি এই এলাকার সন্তান। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি বলেই আপনাদের কাছে আমার দায়বদ্ধতা (Accountability) অনেক বেশি। এলাকার উন্নয়ন আমার ব্যক্তিগত মিশনের অংশ।”
এ সময় তিনি হাজারীবাগ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে গ্যাস ও পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এলাকায় যদি কোনো ধরনের সার্ভিস ডিসরাপশন (Service Disruption) থাকে, তবে আমাকে সরাসরি জানান। গ্যাস ও পানির সংকট সমাধানে আমরা পর্যায়ক্রমে সব দাবি পূরণ করব। উন্নয়নের এই ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করেছি।”
নিরাপত্তা ও জনসন্তুষ্টির প্রতিফলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে মন্ত্রীর কাজের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, শেখ রবিউল আলম রবি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) অনেক বেড়েছে এবং তারা এখন অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছেন।
উপস্থিত সুধীজনদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “পাহাড়ি-সমতল কিংবা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই রূপান্তরের যাত্রায় আপনাদের সমর্থনই আমাদের শক্তি।”
উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য সেতুমন্ত্রীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন জাতীয় ঐক্যের ডাক ছিল, অন্যদিকে ছিল স্থানীয় ‘Infrastructure’ বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের গণমুখী অবস্থান ডিজিটাল যুগে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে।