সাবেক উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের বিচার এবং সেই সময়ের ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কর্তৃক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ওয়ান-ইলেভেন ও সব অপরাধের ‘লাইসেন্স’
ফারুকী তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত শত শত গুম, বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার মতো অপকর্মের মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের সময়। তার মতে, “হাসিনার সব অপকর্মের লাইসেন্স এসেছে ঐ ওয়ান-ইলেভেন থেকে।” তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তদন্তের দাবি জানান।
তদন্ত ও ইতিহাসের স্বচ্ছতা
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফারুকী বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার কেবল শুরু হওয়া উচিত। ওয়ান-ইলেভেনের আদ্যোপান্ত নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন যাতে জাতি আসল সত্য জানতে পারে। তিনি মনে করেন, অতীতের ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে এবং জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সঠিক ইতিহাস চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ
একটি ট্রমা-আক্রান্ত জাতির ‘হিলিং’ বা ক্ষত নিরাময়ের জন্য ফারুকী দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন: বিচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণ। তিনি বলেন, “স্মৃতি সংরক্ষণ বলতে আমি ইতিহাস সংরক্ষণ বোঝাচ্ছি। সেটি মিউজিয়াম, ডকুমেন্টেশন বা রিপোর্টের মাধ্যমে হতে পারে।” তার মতে, বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণ ছাড়া কেবল ‘সব ভুলে যাই’ বলে সামনে এগোলে অপরাধীরা পুনরায় উৎসাহিত হয় এবং জনগণের মনে ক্ষোভ থেকে যায়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা
ফারুকী তার বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন, যদি অতীতের বিচার সম্পন্ন না হয়, তবে নতুন অপরাধীরা পরবর্তী অপকর্ম করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য ওয়ান-ইলেভেনের মতো অধ্যায়গুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।