ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চলমান বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সেনাবাহিনীর বর্তমান জনবল সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
১০টি লাল পতাকা ও সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা বৈঠকে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির স্পষ্টভাবে বলেন, "আমি আপনাদের সামনে ১০টি লাল পতাকা (সতর্ক সংকেত) তুলে ধরছি। সেনাবাহিনীতে যে হারে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে করে খুব শিগগিরই সাধারণ সামরিক অভিযান পরিচালনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।" তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অতিরিক্ত কর্মভার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে মাঠ পর্যায়ের সেনারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।
জরুরি সংস্কারের প্রস্তাব সেনাবাহিনীকে সচল রাখতে এবং পতন ঠেকাতে সেনাপ্রধান মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ‘সেনা নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া সাবেক সেনাদের পুনরায় সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত সেনাদের বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।
লেবানন সীমান্তে অব্যাহত ক্ষয়ক্ষতি সেনাপ্রধান যখন বাহিনীর ভেঙে পড়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে আইডিএফ-এর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় গোলানি ব্রিগেডের সার্জেন্ট ওরি গ্রিনবার্গ (২১) নামে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা তিনে দাঁড়িয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের কারণে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে। এই বহুমুখী ফ্রন্ট সামলাতে গিয়েই মূলত ইসরায়েল এই জনবল সংকটে পড়েছে, যা এখন খোদ সেনাপ্রধানের মাধ্যমেই প্রকাশ্যে এলো।