জাপানের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি হনশু দ্বীপের বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্বল্প গভীরতার ভূমিকম্প হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সুনামি সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান পরিস্থিতি ভূমিকম্পের পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়।
জাপানে ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের 'রিং অব ফায়ার' বা আগ্নেয় মেখলার ওপর দেশটির অবস্থান। এই অঞ্চলে প্যাসিফিক প্লেট এবং ফিলিপাইন সি প্লেটের সংযোগস্থল হওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে ভূকম্পন অনুভূত হয়। উল্লেখ্য, এর আগের দিন বুধবারও জাপানে ৪.২ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছিল, যার কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে।
সুরক্ষা ও প্রস্তুতি জাপানে নিয়মিত ভূমিকম্প হওয়ার কারণে দেশটির অধিকাংশ ভবন ও স্থাপনা বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি। মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করার মতো সক্ষমতা রেখেই এখানকার অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়, যার ফলে বড় মাত্রার কম্পনেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে।