• জাতীয়
  • গুম-ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে সংসদে এসেছেন যা বিশ্বে বিরল : ডেপুটি স্পিকার

গুম-ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে সংসদে এসেছেন যা বিশ্বে বিরল : ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
গুম-ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে সংসদে এসেছেন যা বিশ্বে বিরল : ডেপুটি স্পিকার

গুম ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে অনেকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এসেছেন— এমন ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ। জনগণ বসে থাকে যেন সংসদে গণতন্ত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। এই সংসদে কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চ থেকে, কেউ এসেছি গুম হওয়া থেকে। কেউ আবার কারাগারে দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে মজলুম হয়ে সংসদে এসেছেন। এমন সংসদ বিশ্বের বুকে বিরল। আমি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে এখানে আসতে পেরেছি।

রবিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

১৩ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আজ সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করায় আমি সংক্ষেপে কিছু কথা বলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। আশা করি আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মহান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। সংসদের সব সদস্য আমাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করে যে আস্থা ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন, তার জন্য আমি সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি, যাদের সমর্থনে আজ আমি সংসদ সদস্য হতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

Tags: সংসদ ডেপুটি স্পিকার গুম-ফাঁসির মঞ্চ বিশ্বে বিরল