সদ্য সমাপ্ত গণভোটের আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত অধ্যাদেশটি স্থায়ী আইনে রূপান্তর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, যে উদ্দেশ্যে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় এটি বিল আকারে সংসদে আনার আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
অধ্যাদেশ কেন বিলে রূপান্তর হচ্ছে না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে এটি জারি করা হয়েছিল, সেই গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অধ্যাদেশের অধীনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটিকে পুনরায় বিল আকারে এনে আইন করার কোনো মানে হয় না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেহেতু গণভোটের কাজ শেষ, তাই এটি স্বাভাবিকভাবেই ল্যাপস বা বাতিল হয়ে যাবে।
বিশেষ কমিটির বৈঠক ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনেকগুলো অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থাতেই পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে আনা হবে। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে আগামী ১০ তারিখের মধ্যে সব বিল আনা সম্ভব নাও হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও বিরোধী দলের অবস্থান মন্ত্রী জানান, সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও’র (RPO) মতো কিছু অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, তাই সেগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হবে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ নিয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। বৈঠকে বিরোধী ও সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন, যা কমিটির রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে। যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে প্রয়োজনীয় মনে করলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেগুলো আবার উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।