রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও দমন-পীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (DIG) আব্দুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (DB) একটি বিশেষ টিম তাকে হেফাজতে নেয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রুজু হওয়া হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
২০১৩ সালের সেই বিতর্কিত অভিযানে আব্দুল জলিল মণ্ডলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা ও সমালোচনা ছিল। তৎকালীন সময়ে তিনি পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ওই রাতে শাপলা চত্বরে সমবেত হওয়া সাধারণ মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে বলপ্রয়োগ এবং প্রাণহানির ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে Law Enforcement এজেন্সি।
আব্দুল জলিল মণ্ডলের কর্মজীবন ও ব্যাকগ্রাউন্ড গ্রেফতারকৃত আব্দুল জলিল মণ্ডলের পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলায়। পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (CMP) কমিশনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG, Administration) হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ধারাবাহিকতায় এই গ্রেফতারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিল মণ্ডলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই অভিযানে কার নির্দেশে এবং কীভাবে অপারেশন পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।