• রাজনীতি
  • ‘কোথায় ইলিয়াস আলী?’ দেড় দশকেও মেলেনি উত্তর, সংসদে দাঁড়িয়ে স্বামীর খোঁজ চাইলেন এমপি লুনা

‘কোথায় ইলিয়াস আলী?’ দেড় দশকেও মেলেনি উত্তর, সংসদে দাঁড়িয়ে স্বামীর খোঁজ চাইলেন এমপি লুনা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘কোথায় ইলিয়াস আলী?’ দেড় দশকেও মেলেনি উত্তর, সংসদে দাঁড়িয়ে স্বামীর খোঁজ চাইলেন এমপি লুনা

গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে ন্যায়বিচারের জোরালো আর্জি।

জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে নিখোঁজ স্বামী ও বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়েছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মানবিক হাহাকারের কথা তুলে ধরেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অপেক্ষার দেড় দশক ও আকুল আবেদন বক্তব্যের শুরুতে লুনা বলেন, “এম ইলিয়াস আলী ও সুমন পারভেজসহ যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার আজ এক অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাটছে উৎকণ্ঠায়। আমরা প্রায় দেড় বছর ফ্যাসিবাদমুক্ত সময় পার করেছি, অথচ এখনও জানি না আমাদের প্রিয়জনেরা কোথায় আছেন বা তাদের পরিণতি কী হয়েছে।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়টি নিয়ে সরব আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সন্তানরা তাদের বাবার জন্য এবং মায়েরা তাদের সন্তানের ফেরার প্রতীক্ষায় আজও পথ চেয়ে আছেন।

ন্যায়বিচার ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি সংসদ সদস্য লুনা কেবল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানই চাননি, বরং বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত প্রতিটি গুম ও খুনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার (Judicial Process) দাবি করেছেন। তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এই দীর্ঘ সময়ে যারা রাষ্ট্রীয় জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কেবল মানসিকভাবেই নয়, আর্থিকভাবেও পঙ্গু হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রের উচিত এই পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।”

একটি রহস্যজনক অন্তর্ধানের ইতিহাস ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম ইলিয়াস আলী। সেই সময় থেকেই অভিযোগ রয়েছে যে, তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ শাখা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ‘Enforced Disappearance’ বা গুম করেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পার হলেও তাঁর কোনো হদিস মেলেনি, যা দেশের মানবাধিকার (Human Rights) পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

আশার আলো ও আগামীর বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করে লুনা বলেন, “রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং গুম-খুনের যে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল হবে এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের পরিচালনায় এই বক্তব্য চলাকালে সংসদের অন্যান্য সদস্যরাও অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে লুনার মানবিক আবেদন শ্রবণ করেন। এই বক্তব্যটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যা গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি জনমতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

Tags: justice july revolution bnp leader human rights rehabilitation sylhet news enforced disappearance national parliament ilias ali mp luna