দেশে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম বা Measles আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ এবং মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অন্তত ১০টি জেলায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও রাজধানীর চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। কেবল মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মৃত্যুমিছিল সোমবার (৩০ মার্চ) মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (Junior Consultant) ডা. শ্রীবাস পাল নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ছয় শতাধিক রোগী। এর মধ্যে ২২ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংক্রমণের তীব্রতা বেড়েছে মার্চ মাসে। এই এক মাসেই পাঁচ শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের অনেকের শারীরিক অবস্থাই সংকটাপন্ন।
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে দেশব্যাপী সংক্রমণ কেবল রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও আসছে শিশু মৃত্যুর খবর। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সারা দেশে শুধু মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ জন শিশু হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে দেশের ১০টি জেলাকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে নতুন নতুন রোগীর ভিড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
টিকার ঘাটতিই কী প্রধান কারণ? হামের এই হঠাৎ প্রাদুর্ভাবের পেছনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) স্থবিরতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. শ্রীবাস পাল জানান, যারা মারা গেছে বা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে, তাদের বড় একটি অংশ নিয়মিত টিকা বা Vaccine গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “সঠিক সময়ে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত না করায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যার ফলে সংক্রমণটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোভিডের পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের প্রতি অনীহা অথবা সচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতির জন্য অনেকটা দায়ী।
প্রতিরোধে করণীয় ও স্বাস্থ্যবিধি হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা মূলত বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ডা. শ্রীবাস পাল পরামর্শ দিয়েছেন যে, কোভিডের সময় আমরা যেসব স্বাস্থ্যবিধি (Health Guidelines) মেনে চলতাম, সেগুলো অনুসরণ করলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে (Isolation) রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে (DGHS) অতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই Outbreak সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।