ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৪।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের আঘাতে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কম্পনের সময় আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য দমকলবাহিনী ও জরুরি বিভাগ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা টারনেট শহরের ৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, কম্পনটি প্রায় এক মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী ছিল। তিনি বলেন, “দেয়াল যখন কাঁপতে শুরু করে তখন আমরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি। রাস্তায় শত শত মানুষকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা গেছে। অনেকে এতটাই দ্রুত ঘর ছেড়েছেন যে গোসল পর্যন্ত শেষ করার সুযোগ পাননি।” অন্য এক বাসিন্দা সাইফুল জানান, কম্পনটি শুরুতে হালকা হলেও ধীরে ধীরে তা অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭.৮ ধরা হলেও পরবর্তীকালে তা সংশোধন করে ৭.৪ জানানো হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নর্থ মালুকু প্রদেশের টারনেট শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে।
সুনামি সতর্কতা ও সতর্কতা ব্যবস্থা মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্যমতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ১০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার ফলে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। ফলে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।