ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার কথা অস্বীকার করলেও হেগসেথ বলেছেন, এ আলোচনা ‘একদম বাস্তব’।
পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি ‘প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশে এখন স্বাধীনভাবে উড়তে পারছে। যখনই ইরানের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চারগুলো বাইরে বের করা হচ্ছে, তখনই সেগুলো উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হেগসেথ অঙ্গীকার করে বলেন, ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সামরিক শক্তি আমরা ব্যবহার করতে চাই না। তবে আমি যখন বলেছিলাম, আমরা ‘‘বোমা দিয়ে আলোচনা’’ করব, তখন সেটি হালকাভাবে বলিনি। আমাদের কাজ হলো ইরানকে এটা বোঝানো, তারা যদি একটি চুক্তিতে আসে তবেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ভালো অবস্থায় থাকবে।’
হেগসেথ জানান, গত সপ্তাহে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাঁদের দিয়েছেন, ফিরে এসে সোমবার তিনি তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ দলে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
হেগসেথ আরও জানান, ইরানের কাছে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও ৮২তম এয়ারবোর্ন সৈন্য মোতায়েনের উদ্দেশ্য, আলোচনার টেবিলে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করা।
কেন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এর উদ্দেশ্য, ‘অপ্রত্যাশিত’ কিছু করা। হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের শত্রুরা এখন ভাবছে যে অন্তত ১৫টি উপায়ে আমরা তাদের ওপর স্থল হামলা চালাতে পারি। আর সত্যিই আমরা তা পারি। প্রয়োজন হলে আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে সেই বিকল্পগুলো ব্যবহার করব। আবার হয়তো সেগুলো একেবারেই ব্যবহার করব না, যদি আলোচনার মাধ্যমে কাজ হয়ে যায়।’
ইতিমধ্যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একার নয়, মিত্র দেশগুলোরও এতে আরও ভূমিকা রাখা উচিত।
যারা ইরান যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, তেলের সংকট নিয়ে তারা চিন্তিত হলে যেন নিজেরা হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে তেল ‘নিয়ে আসে’।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের এখন নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র তোমাদের সাহায্য করার জন্য আর সেখানে থাকবে না, ঠিক যেভাবে তোমরা আমাদের পাশে ছিলে না।’
হেগসেথ ট্রাম্পের এ বার্তাকে সমর্থন করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে প্রস্তুত। হেগসেথ বলেন, ‘ইরান যদি বুদ্ধিমান হয়, তবে তারা একটি চুক্তি করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি করবেন। তিনি এ জন্য প্রস্তুত।’
তথ্যসূত্র: টাইম