মালদ্বীপের রাজধানী মালে’র তপ্ত ঘাসে ফুটল জয়ের হাসি। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবারও তাদের আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে একধাপ এগিয়ে গেল। ম্যাচের ১১তম মিনিটে মোহাম্মদ মানিকের করা দর্শনীয় এক গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বাংলাদেশ ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই নেপালকে চাপে রাখার কৌশল নেয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। উইং দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠে নেপালের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইন। গোল পেতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ১১তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে তৈরি হওয়া এক চমৎকার আক্রমণ থেকে লিড পায় বাংলাদেশ। মুর্শেদ আলির নিখুঁত এক চিপ নেপালের ডিফেন্স চিরে বক্সে পৌঁছালে, সেখান থেকে চমৎকার এক হেডে (Header) বল জালে জড়ান মোহাম্মদ মানিক। লিড নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও এসেছিল, তবে অফসাইডের (Offside) কারণে রোনান সুলিভানের একটি গোল বাতিল হয়ে যায়।
কৌশলী লড়াই ও ডাগআউটের চ্যালেঞ্জ এই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল দ্বিমুখী। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড (Red Card) পাওয়ায় ডাগআউটে ছিলেন না প্রধান কোচ মার্ক কক্স। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর হাত ধরে মাঠে নামে দল। ডাগআউটে কোচের অনুপস্থিতি বুঝতে না দিয়ে ফুটবলাররা মাঠজুড়ে ট্যাকটিক্যাল ফুটবল (Tactical Football) খেলেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছিল অনন্য।
রক্ষণের দৃঢ়তা ও মাহিনের বিশ্বস্ত হাত এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। ১৭তম মিনিটে সুভাস বমের এক জোরালো শট নিশ্চিত গোল হতে পারত, কিন্তু গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিনের অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স (Reflex) বাংলাদেশকে রক্ষা করে। পুরো ম্যাচে মাহিন ছিলেন আস্থার প্রতীক। দ্বিতীয় হাফে নেপালের ফ্রি-কিক এবং দূরপাল্লার শটগুলো রুখে দিয়ে নিজের ক্লিন শিট (Clean Sheet) বজায় রাখেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে ডিফেন্ডার ইউসুফ আলির ব্লক বাংলাদেশকে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
সুলিভান ভাইদের রেকর্ড ও তারুণ্যের জয়গান এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আরও একটি বিশেষ কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক (Debut) হয়েছে ডেকলান সুলিভানের। এর আগেই তাঁর ভাই রোনান সুলিভান দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছিলেন। দুই প্রবাসী ভাইয়ের একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ দলের শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তরুণ ফুটবলারদের এই সংমিশ্রণ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (BFF) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই ফসল।
অতীতের ধারাবাহিকতা ও ফাইনালের অপেক্ষা ২০২৪ সালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ও নেপালকে হারিয়েছে তারা। বুধবারের জয় প্রমাণ করল, দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য শক্তি। মালে’র এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং এটি শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখার পথে বড় একটি আত্মবিশ্বাসের নাম। এখন চূড়ান্ত মহারণে কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার অপেক্ষা।