প্রকৃতির রুদ্ররূপের আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৯টি জেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখীর তীব্র ঝাপটা বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টার মধ্যে এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত বিশেষ সতর্কবার্তা বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি ‘Weather Alert’-এ জানানো হয়েছে, দেশের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বজ্রপাত এবং বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টির (Hailstorm) সম্ভাবনাও রয়েছে।
যেসব এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা বেশি থাকবে আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশেষত ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যেতে পারে। জেলাগুলো হলো: ১. ঢাকা ২. রংপুর ৩. দিনাজপুর ৪. টাঙ্গাইল ৫. ময়মনসিংহ ৬. নোয়াখালী ৭. কুমিল্লা ৮. চট্টগ্রাম ৯. সিলেট
নদীবন্দরে সতর্কতা ও ১ নম্বর সংকেত ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (Cautionary Signal) দেখাতে বলা হয়েছে। ছোট ছোট নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে এবং ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশের ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র আবহাওয়ার নিয়মিত ‘Daily Bulletin’-এ জানানো হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চৈত্র-বৈশাখের এই সময়ে তাপমাত্রার বৃদ্ধির সাথে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় আকস্মিক কালবৈশাখী বা ‘Thunderstorm’ দেখা দেয়। তাই বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় না থেকে পাকা দালান বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।