চট্টগ্রামে এক দিনে আরো ১৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৬ জনে।
নতুন করে ১৮ জন রোগী নগরী ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, "আজ ও আগের হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ নিয়ে নগরীর হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তি আছে ৭৬ জন। এরমধ্যে ৮ জনের নমুনায় হাম শনাক্ত হয়েছে।"
হাম শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে ৬ জন নগরীর এবং ২ জন উপজেলার বাসিন্দা।
এছাড়া হাম শনাক্তের জন্য বুধবার চট্টগ্রাম জেলা থেকে ২০ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার পর্যন্ত ৯১ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের নমুনা শনাক্তের জন্য ঢাকার পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিসেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অভিভাবকদের বলব জ্বর, সর্দি, কাশি, র্যাশ ও চোখ ওঠার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সাতদিন পর ভালো হয়ে যায়।
“কিন্তু যদি জ্বর না কমে বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়, সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। যদি জ্বর না কমে তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।”
তিনি বলেন, “যে শিশুরা ভর্তি আছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ভালোর দিকে। যাদের হাম শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যেও তিনজন ভর্তি আছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে চলে গেছে।
“আমাদের টিকার কোনো স্বল্পতা নেই। সব ধরনের টিকা আছে। যে টিকা আছে, তাতে দুই মাস চলবে।”
অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মঙ্গলবার ছয় মাসের এক শিশু মারা গেছে।
আগের দিন রাতে কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে শিশুটি চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম কর্নার, জেনারেল হাসপাতাল এবং বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে পৃথক একটি কর্নার চালু করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত এবং হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।