• জাতীয়
  • সারা দেশে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাব: ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বিশাল টিকাদান কর্মসূচি, সুখবর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সারা দেশে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাব: ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বিশাল টিকাদান কর্মসূচি, সুখবর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সারা দেশে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাব: ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে বিশাল টিকাদান কর্মসূচি, সুখবর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সুরক্ষায় গাবি থেকে আসছে ২ কোটি ডোজ টিকা; জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল ও হাসপাতাল প্রস্তুতির নির্দেশ।

দেশের প্রতিটি জেলায় হাম (Measles) রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান।

টিকাদান কর্মসূচির সময়সূচি ও লজিস্টিকস প্রস্তুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ‘Vaccine’ ও ‘Syringe’ সংগ্রহ করে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘Vaccination Program’ শুরু হবে, যা নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।

গাবি থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ টিকা সংগ্রহ জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা গাবি (Gavi) থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ টিকা ধার নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। মন্ত্রী জানান, “প্রাথমিকভাবে এই বিশাল পরিমাণ ডোজ ধার হিসেবে আনা হলেও পরবর্তী সময়ে তা কিনে পরিশোধ করা হবে।” এছাড়া ইউনিসেফ-এর (UNICEF) সহায়তায় হাম মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মূলত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসবে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অগ্রাধিকার ও হাসপাতাল প্রস্তুতি যেসব জেলায় সংক্রমণের মাত্রা বা ‘Infection Rate’ বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে যেন সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ‘Ventilator’ ও শয্যা (Beds) প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে মাঠ পর্যায়ে শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

পূর্বতন অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ১৭ বছরের স্বাস্থ্য খাতের পরিকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণেই আজ দেশজুড়ে হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ‘Public Health’ বা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বদ্ধপরিকর।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের সুস্থ রাখতে এবং হামের মতো প্রাণঘাতী রোগের জটিলতা এড়াতে নির্দিষ্ট সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসা জরুরি। ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে কোনো শিশুকে যেন বাদ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্ল্যামার ও প্রচারণার আড়ালে থাকা এই নীরব ঘাতক হাম মোকাবিলায় সরকারের এই ‘Mass Vaccination’ কর্মসূচি কতটুকু সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে দ্রুত টিকা আমদানির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Tags: health minister measles vaccine