• জাতীয়
  • ‘হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য’: তেজগাঁও ভূমি ভবনে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর ও কড়া বার্তা

‘হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য’: তেজগাঁও ভূমি ভবনে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর ও কড়া বার্তা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য’: তেজগাঁও ভূমি ভবনে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর ও কড়া বার্তা

খতিয়ান থেকে মৌজা ম্যাপ—নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করতে সরেজমিনে সেবার মান দেখলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল; কর্মকর্তাদের দিলেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কঠোর নির্দেশ।

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে এখন লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আর এই যাত্রায় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির জায়গা হিসেবে পরিচিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তা মোড়ে অবস্থিত ‘ভূমি ভবন’ পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

সরেজমিনে সেবার হালচাল ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কোনো পূর্বনির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ভূমি ভবনে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ভবনের বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং নাগরিকরা কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেবল নথিপত্র দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং এস.এ. খতিয়ান, আর.এস. খতিয়ান, নামজারি (Mutation) খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন কি না কিংবা কোনো তৃতীয় পক্ষের বা দালালের খপ্পরে পড়ছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি।

গাফিলতি ও হয়রানি নিয়ে জিরো টলারেন্স সেবাগ্রহীতাদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “জনবান্ধব ভূমি সেবা বা Citizen-friendly Land Service নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষ যেন ভূমি অফিসে এসে হয়রানির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাজে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে সার্ভিস ডেলিভারি নিশ্চিত করতে তিনি কর্মকর্তাদের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।

ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়ন ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাতে সরকারের কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা বা Modern Land Management গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করছি। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিতেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Accountability) নিশ্চিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব। ভূমি ভবনের কার্যক্রমে প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গতি আনার নির্দেশনা দেন তিনি।

উচ্চপর্যায়ের তদারকি পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর একান্ত সচিব এবং ভূমি ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ভবনের জৌলুস বাড়লে হবে না, সেবার জৌলুস সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল জোনিং এবং অনলাইনে খাজনা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার বিষয়েও তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের এই আকস্মিক পরিদর্শনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা যদি এভাবে সরেজমিনে তদারকি করেন, তবে ভূমি খাতের দীর্ঘদিনের অচলায়তন ও জনভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে।

Tags: public service dhaka news digital service transparency mir helal citizen rights land ministry land bhaban land reform government audit